ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকা এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সরেজমিনে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি, খলিশাকোঠাল, বালাতাড়ি, কুরুষাফেরুষা, জাগিরটারী, গোরকমন্ডল ও চর গোরকমন্ডল এলাকায় দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ মরিচের খেত। মরিচ চাষের পাশাপাশি এখানকার অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য চাষ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক কৃষক নিজস্ব জমি না থাকলেও অন্যের জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে মরিচ চাষ করছেন।
গজেরকুটি এলাকার মরিচ চাষি আফজাল হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। পুরো মৌসুমে ৬৫ থেকে ৭০ মন মরিচ উৎপাদন হয়। তিনি জানান, খেতেই প্রতি মন মরিচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে।
আরেক চাষি মজিবর রহমান বলেন, যারা নিজেরা মরিচ তুলে স্থানীয় ও পাশের জেলা লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে বিক্রি করছেন, তারা সব খরচ বাদ দিয়ে এক বিঘা জমিতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারছেন।
স্থানীয় পাইকার দুলাল মিয়া জানান, এ বছর ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দাম ভালো রয়েছে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি পাইকাররাও লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

Leave a Reply