জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন আন হুং ওয়েই নামের এক চীনা যুবক। প্রেমের সম্পর্কের পর বাংলাদেশি তরুণী মোরশেদা বেগমকে বিয়ে করে বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক আন হুং ওয়েইয়ের। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। পরে ঢাকায় এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন তারা।
বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার চেষ্টা করছেন তার সঙ্গে কথা বলতে। পুরো এলাকায় যেন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ভালোবাসার বন্ধনই কাছে এনেছে এই দম্পতিকে। চীনা যুবক আন হুং ওয়েইয়ের আন্তরিক আচরণ ও সহজ-সরল ব্যবহার ইতোমধ্যেই মন জয় করেছে এলাকাবাসীর।
মোরশেদা বেগম বলেন,
“মোবাইল ফোনে আমাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সে ঢাকায় এসে আমাকে বিয়ে করে। সে আমাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছে। তাই তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে এসেছি।”
চীনা যুবক আন হুং ওয়েই বলেন,
“মোরশেদাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি তাকে খুব ভালোবাসি। এখানে এসে আমারও খুব ভালো লাগছে।”
এ সময় তিনি তাদের বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রদর্শন করেন।
কাশিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম বলেন,
“বিষয়টি শুনে আমিও দেখতে এসেছি। তাদের দেখে আমারও ভালো লেগেছে। এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।”
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান,
“প্রেমের সম্পর্কের টানে এক চীনা যুবক ফুলবাড়ীর কাশিপুর এলাকায় এসেছে—বিষয়টি আমরা জেনেছি।”
এদিকে “চায়না জামাই”কে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এই ঘটনাকে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply