হোম / চাকরি
চাকরি

পেনশন নিশ্চিত করে বিদেশযাত্রা: সিলেটে অসুস্থতার অজুহাতে চাকরি ছাড়ছেন সরকারি কর্মচারীরা

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫২ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪৭৫ বার

সিলেট প্রতিনিধিঃ

সিলেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসুস্থতার অজুহাতে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পেনশনসহ অবসরোত্তর সুবিধা নিশ্চিত করে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্যেই অনেকেই এ কৌশল বেছে নিচ্ছেন। গত তিন বছরে শুধু সিলেট জেলাতেই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি না নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমানো সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। বিশেষ করে গত তিন-চার বছরে সিলেট অঞ্চলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি গত তিন বছরে বিপুলসংখ্যক সিলেটবাসী কানাডার ভিজিট ভিসা পেয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়ে অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশগামী এসব ব্যক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী থাকায় চাকরি ছাড়ার বিষয়টি সামনে চলে আসছে। যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর বা তার বেশি, তারা পেনশনসহ অবসরোত্তর সুবিধা পেতে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করছেন।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৫ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর পেনশন সুবিধাসহ স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে অন্তত তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। স্বেচ্ছায় অবসরে গেলে গ্র্যাচুইটি, অবসর-পরবর্তী ছুটির আর্থিক সুবিধাসহ অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাওয়া যায়।

সিলেট সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মোট ১১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে ২৮ জন, ২০২৩ সালে ৩০ জন এবং ২০২৪ সালে সর্বাধিক ৫২ জন আবেদন করেন। তবে মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষায় এসব আবেদনের বড় অংশই বাতিল হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১২টি, ২০২৩ সালে ১৫টি এবং ২০২৪ সালে ২৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

তবুও আবেদন বাতিল হলেও অনেকেই ভিন্ন কৌশলে চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি না নিয়েই বিদেশে চলে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গত তিন বছরে সিলেটের কয়েক শ’ প্রাথমিক শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি না নিয়েই গোপনে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পর মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। আবেদনকারীর নথিপত্র ও শারীরিক-মানসিক অবস্থা যাচাই করে বোর্ড মতামত প্রদান করে।”

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞ জনবল এভাবে দেশ ছাড়লে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সেবার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!