হোম / অপরাধ
অপরাধ

নাগেশ্বরীর নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে জালিয়াতি ও ১৬ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগে নিয়োগ বাতিল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সভাপতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিখিত অভিযোগ দায়ের

প্রকাশ: 10 October 2026, 04:45 PM পড়া হয়েছে: ৮ বার

কচাকাটা (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় পুর্বের তারিখ দেখিয়ে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনেয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (অফিস সহায়ক) নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবি করে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাদ্রাসার বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কিন্তু তা না করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু না করেই অনিয়মতান্ত্রিভাবে গোপনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিধিগত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি এবং প্রকৃত ও যোগ্য প্রার্থীদের আবেদনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাঁদের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। ওই রেজুলেশনে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও ৩ জন অভিভাবক কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক পদপ্রার্থী মো. নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিল ওরফে

জামাদারের কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এই মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে ইতিপুর্বেও আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন।

এই অনিয়মের ঘটনায় মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন জানান,অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি মুঠোফোন রেসিভ করেন নাই। মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেয়ার সময় ডিজির প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অভিভাবক সদস্য, মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগকারীরা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়োগের ভিত্তিতে কোনো এমপিও ভুক্তি, বেতন-ভাতা বা সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রদান না করার জন্য এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সভাপতির এই নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবনতি বিলম্বে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনার সুত্রপাত ঘটার আশংকা করেছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!