হোম / অপরাধ
অপরাধ

নাগেশ্বরীর আয়নালের ঘাটে দুধকুমার নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের মুখে নদীপাড়

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৪ বার


নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের আয়নালের ঘাট সংলগ্ন দুধকুমার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মাধ্যমে বালু খেকো হাসান আলী ও আফছার হোসেন বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে গত প্রায় ২০ দিন ধরে দুধকুমার নদীর পূর্ব পাড়ে আয়নালের ঘাট এলাকায় দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনী গ্রামের হাসান আলী ও আফছার হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র দুই মাস আগেই কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির মানববন্ধনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে আয়নালের ঘাট এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ করে। অথচ সেই জিও ব্যাগ ফেলার স্থান সংলগ্ন এলাকা থেকেই আবার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি।
ভুক্তভোগী কৃষক সেকেন্দার আলী ও মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের ফসলি জমির পাশেই নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। হাসান আলী ও আফছার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু তুলে বিক্রি করছেন। এতে আমরা সর্বস্ব হারানোর মুখে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ী হাসান আলী ও আফছার হোসেন দাবি করেন, “বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদারকে সাপ্তাহিক মাসোহারা দিয়ে আমরা কাজ চালাচ্ছি। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নাগেশ্বরীর এসিল্যান্ড দেখবেন।”
তবে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, “অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা বলেন, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হলে দুধকুমার নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেবে এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!