নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক বুধবার শেষ হয়েছে। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া সভা রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে। সভায় খসড়া ড্রাফট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনার পর আরও অন্তত তিনটি পূর্ণ কমিশনের সভা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, তিন ধাপে পে-স্কেল সুপারিশ বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দেবে, দ্বিতীয় ধাপে এটি সচিব কমিটিতে যাবে এবং সচিব কমিটির অনুমোদনের পর উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো হবে। উপদেষ্টা পরিষদ কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে এরপর গেজেট জারি করা হবে।
এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশন সদস্য জানিয়েছেন, “খসড়া ড্রাফট প্রস্তুত, তবে কিছু বিষয়ে সংশোধনী প্রয়োজন। চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বেতন ও গ্রেড নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে বাস্তব সম্মত সুপারিশ করা হবে, অতিরঞ্জিত কোনো সুপারিশ করা হবে না।”
জাতীয় বেতন কমিশন (পে কমিশন) বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে প্রাপ্ত মতামত চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, “আমরা অবশ্যই দাবি পেশ করব, তবে সব দাবি রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় হয় না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজছি।”
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমরা বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচি দেবো না। সব কর্মসূচি সরকারি বিধিমালার মধ্যে থেকে হবে।”
সভায় পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন, সদস্য সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ কমিশনের খন্ডকালীন সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য কমিশন গত জুলাই মাসে গঠন করা হয়। কমিশনের দায়িত্বে রয়েছে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা করছেন, নতুন পে-স্কেলের গেজেট ডিসেম্বরের ১৫-এর মধ্যে প্রকাশিত হবে।

Leave a Reply