হোম / আইন ও পরামর্শ
আইন ও পরামর্শ

দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনের প্রতিবাদে বিজিবির স্পষ্ট প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা প্রদান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২৭ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ১৪ জুন ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত “দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন; দুই দেশের বিবৃতিতে রহস্যময় ফারাক” শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

বিজিবি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিবেদনে ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি সম্মেলনের সারসংক্ষেপ মাত্র। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক দলিল জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা, ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ বাংলাদেশের উত্থাপিত সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নথিভুক্ত রয়েছে। তাই যৌথ বিবৃতিতে কোনো শব্দ বা বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপিত হওয়াকে বাংলাদেশের অবস্থানের দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিজিবি আরও জানায়, যৌথ প্রেস বিবৃতি ও পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে পার্থক্য কোনো রহস্যজনক বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এটি একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত প্রক্রিয়া। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় আলাদা বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে থাকে।

প্রতিবেদনে বিজিবি প্রতিনিধিদলের বিরুদ্ধে “আত্মসমর্পণ”, “আপোসকামী অবস্থান” বা “ভারতের প্রতি দুর্বলতা” প্রদর্শনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বাহিনীটি জানায়, এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে বিজিবি দৃঢ় ও অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছে।

বিজিবি আরও স্পষ্ট করে যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচ্যসূচি ও প্রাসঙ্গিক নথি বিনিময় একটি স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এটিকে “গোপন তথ্য ফাঁস” হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বাহিনীটি জানায়, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলোতেও অনুসৃত হয়েছে। বৈঠকে কোনো চিঠি হস্তান্তর করা হয়নি বলেও জানানো হয়।

এছাড়া, বিজিবি মহাপরিচালকের ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন তোলাকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের প্রতি আনুগত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজিবি বলেছে, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, মাদক ও মানবপাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুমাননির্ভর ও প্রমাণহীন তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি।

বাহিনীটি আশা প্রকাশ করে, সঠিক তথ্য তুলে ধরে গণমাধ্যমগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং জনসাধারণের কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছে দেবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!