হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |
রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয়ের ভেতরে বসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হুমকি, পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য এবং ভয়াবহ অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনকে চাপে ফেলার দুঃসাহস—এই ঘটনাকে আর ‘বাগ্বিতণ্ডা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
এই অভিযোগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম।
থানার ভেতর ভয়ভীতি প্রদর্শনের আস্তানা!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়—শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে বসেই মাহদী হাসান ওসির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তা হুমকি ও ভয়ভীতিতে রূপ নেয়। তার কথাবার্তায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষ ও আগ্রাসী মনোভাব স্পষ্ট।
ভিডিওতে তাকে বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো চরম সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করতে শোনা যায়—যা কেবল কথার বাড়াবাড়ি নয়, বরং অপরাধমূলক মানসিকতার প্রকাশ।
প্রশ্ন উঠছে: থানার ভেতরে এমন সাহস এল কোথা থেকে?
একজন ছাত্র সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতা থানার ভেতরে বসে পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেবেন—এমন দৃশ্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং ভয়াবহ প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে কি রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ কেউ নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছেন?
আইনজ্ঞদের মতে, থানার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহমূলক আচরণের কাছাকাছি অপরাধ, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
ভিডিও ভাইরাল, কিন্তু প্রশাসনের নীরবতা কেন?
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও প্রশ্ন উঠেছে—গ্রেফতার করতে কেন সময় লাগল? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য হুমকির পরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া কি কোনো বার্তা দেয়?
এই বিলম্ব প্রশাসনিক দুর্বলতা নাকি অদৃশ্য চাপ—সে প্রশ্নও এখন জনমনে।
চাপের মুখে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি
সমালোচনার ঝড় ওঠার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি বাধ্য হয়ে মাহদী হাসানের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে অনুসন্ধানী মহলের প্রশ্ন—ঘটনার আগে সংগঠনটি কোথায় ছিল?
আইনের শাসন না কি নামের জোর?
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানিয়েছেন, ঘটনার ভিডিও ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—আইনের শাসন দুর্বল হলে ক্ষমতার দম্ভ মাথাচাড়া দেয়।
উদাহরণ তৈরি না হলে দৃষ্টান্ত গড়ে উঠবে না
এই গ্রেফতার যদি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। হুমকি, ভয়ভীতি ও সহিংসতার ভাষা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে থানাই পরিণত হবে ভয় দেখানোর মঞ্চে।
রাষ্ট্র কি এবার সত্যিই শক্ত অবস্থান নেবে—নাকি আবারও সব ঢেকে যাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে?

Leave a Reply