হোম / আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

তুরস্কে বিমান বিধ্বস্ত: লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ নিহত ৮

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪১৯৪ বার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি প্রাইভেট জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ফ্যালকন–৫০ মডেলের জেটটি দুর্ঘটনায় পড়ে। আকাশে ওড়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক বাহিনীর উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাওয়ী, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই দিয়াব এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দূরান জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটির তিনজন ক্রু সদস্যও নিহত হয়েছেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া বলেন, উড্ডয়নের পর বিমানটি আঙ্কারার দক্ষিণে হাইমানা এলাকায় জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিল। পরে হাইমানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। স্থানটি আঙ্কারা শহর থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইলমাজ তুনচ জানিয়েছেন, আঙ্কারার প্রধান প্রসিকিউটর অফিস এ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানান, এতে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সরকারি সফর শেষে আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি এই মৃত্যুকে লিবিয়ার জন্য ‘বড় ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, জেনারেল আল-হাদ্দাদ ছিলেন পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার সামরিক বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তুরস্ক সফরে গিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি দেশে ফিরছিলেন।
২০১১ সালে মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে সমান্তরাল দুটি সরকার কার্যকর রয়েছে। জাতিসংঘ স্বীকৃত আব্দুল হামিদ দবেইবা সরকারের সঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে তুরস্ক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!