আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের উত্তর খাউরিয়ার চরে পৈতৃক জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ভাতিজাদের হামলায় দুই ফুপুসহ একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, নিহত পিতার জমির ৬ বিঘা অংশ হিসেবে ছয় বোন দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ওই জমিতে তারা গম চাষ করেন। তবে জমিতে ভূট্টা চাষে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজাদের সঙ্গে ফুপুদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভাতিজারা ফুপুদের জমির ভাগ থেকে বঞ্চিত করতে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল।
ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ফুপু দেলজান ও তার বোন নুরজান জানতে পারেন, তাদেরই চাষ করা গম ক্ষেতে ভাতিজারা জোরপূর্বক ভূট্টা রোপণ করছে। বিষয়টি দেখতে তারা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, শোটা ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাতিজারা দেলজান ও নুরজানকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে মারধর করে।

পরে খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজনেরা আহতদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। থানায় যাওয়ার প্রস্তুতিকালে অভিযুক্ত ভাতিজারা আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দেলোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় সরবানু, দেলজান, নুরজান, হাসান, দেলোয়ার ও হাসিনাসহ মোট সাতজন গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে নৌকাযোগে আহতদের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সরবানু অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদের নির্দেশে তার চাচাতো ভাইদের দ্বারা এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, হামলায় তার মাথা ফেটে যায় এবং কানের একটি সোনার রিং জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আহত দেলজান ও নুরজান অভিযোগ করেন, ভাতিজা মন্টু ও সাজেদুল লাঠি দিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত দেলোয়ার জানান, হামলার সময় তার পকেটে থাকা চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ঢুষমারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply