হোম / আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

চিলমারীর কাবিউর রহমান রিয়াদ ‘লন্ডনভিত্তিক ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’-এ রানারআপ

প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: বার


আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’-এর একটি শাখায় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সন্তান কাবিউর রহমান রিয়াদ। তিনি বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।
বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশ থেকে পাঠানো ২০ হাজারেরও বেশি ছবি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্যাটাগরিতে রানারআপ নির্বাচিত হন কাবিউর রহমান রিয়াদ। তাঁর বাড়ি চিলমারী উপজেলা সদরের থানাহাট মন্ডলপাড়া এলাকায়।
গত ২৫ জানুয়ারি লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ২৩তম আসরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ও রানারআপদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে পেশাদার শাখায় সম্মিলিতভাবে সেরা হন গ্রিসের আথানাসিওস মালুকোস এবং নবীন আলোকচিত্রী শাখায় বিজয়ী হন যুক্তরাজ্যের ১০ বছর বয়সী জেমি স্মার্ট। কাবিউরের বয়সভিত্তিক শাখায় বিজয়ী হন রোমানিয়ার ১৫ বছর বয়সী মাতেই মারাচিনেয়ানু।
কাবিউর রহমান রিয়াদ নিজ এলাকার নদী, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র ধারণ করে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার নিয়মিত খোঁজ রাখেন তিনি। গত বছরের মার্চ মাসে ইনস্টাগ্রামে ‘ট্রাভেল ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’-এর ছবি আহ্বানের বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী হয়ে নিজের তোলা কয়েকটি ছবি পাঠান কাবিউর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত নভেম্বরে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান করে নেয় তাঁর ছবি। পরে ভোটগ্রহণ শেষে ঘোষিত হয় চূড়ান্ত ফলাফল।
নিজের আলোকচিত্রের শুরু সম্পর্কে কাবিউর জানান,
“আমার আম্মু একটি এনজিওতে চাকরি করেন। তাঁর কাজের প্রয়োজনে অফিসের ক্যামেরা বাসায় আনতেন। তখনই ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। পরে মা নিজেই আমার জন্য একটি ক্যামেরা কিনে দেন।”
এরপর চিলমারী ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ছবি তুলতে থাকেন তিনি এবং নিয়মিত অংশ নেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়।
উল্লেখ্য, কাবিউর রহমান রিয়াদ গত বছর চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ.ইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তি হন। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান জিয়া থানাহাট বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক।
ছেলের সাফল্যে অনুভূতি প্রকাশ করে জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই ছবি তোলার প্রতি ওর প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। নদীর পাড়, খেলার মাঠ, প্রকৃতি—সবকিছু নিয়েই ছবি তুলত। আমি সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছি। আজ তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।”
এই অসামান্য অর্জনের জন্য কাবিউর রহমান রিয়াদকে এলাকাবাসী, শিক্ষানুরাগী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!