হোম / অপরাধ
অপরাধ

চিলমারীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে তাড়াহুড়োর অভিযোগ, সময় বাড়লেও প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

প্রকাশ: 1 August 2026, 12:59 PM পড়া হয়েছে: ১৭ বার


মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো এবং প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। আবেদন গ্রহণ, মৌখিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরদিন ২৩ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হয় এবং ২৪ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্বল্প সময়ের কারণে অনেক আগ্রহী প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আশপাশে আবেদনপত্র হাতে নিয়ে অনেককে আবেদন গ্রহণের অনুরোধ করতে দেখা যায়। একই সময়ে জেলার অন্যান্য উপজেলায় ২৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ এবং ২৬ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চিলমারীতে ব্যতিক্রমী তাড়াহুড়ো করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
২৪ জুলাই চিলমারী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় যোগ্য অনেক প্রার্থী আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২৬ জুলাই তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সদস্য-সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাজমুল হকের কাছে পরীক্ষার ফলাফল এবং মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান পরীক্ষার সকল কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে গেছেন। ফলে মোট কতজন আবেদন করেছেন বা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, সে তথ্য তার কাছে নেই।
তবে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট প্রায় ৭৬০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জন্য ৪ জন সুপারভাইজার এবং ৪৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে শনিবার দুপুরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে পরবর্তীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও চিলমারী উপজেলায় সে অনুযায়ী কোনো নতুন উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এ ধরনের তড়িঘড়ি ও সমন্বয়হীন কার্যক্রম সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সঠিক তথ্য সংগ্রহকে ব্যাহত করতে পারে।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!