হোম / অপরাধ
অপরাধ

চবিতে জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্ত শিক্ষকের হেনস্তা, প্রক্টরের গাড়িতে ক্যাম্পাস ত্যাগ

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২৫ বার


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা এক শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে এসে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়া ওই শিক্ষককে ধরে এনে প্রায় ৯ ঘণ্টা প্রক্টর ও সহ-উপাচার্যের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার পর শনিবার রাতে প্রক্টরের গাড়িতে করে ক্যাম্পাস ছাড়তে দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে। হেনস্তার শিকার শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ চবি আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। তিনি আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন ‘হলুদ দল’-এর একাংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে আইন অনুষদের সামনে ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা হাসান মোহাম্মদকে চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা তাড়া করেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের পেছন দিক দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় গাছের একটি গুঁড়িতে হোঁচট খেয়ে তিনি সামান্য আহত হন। পরে তাকে একটি অটোরিকশায় করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সহ-উপাচার্যের কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
অবরুদ্ধ অবস্থায় শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় পরিস্থিতি ভালো নয় জানিয়ে তাকে বের হতে বলা হয়। বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের চিৎকারে তিনি ভয় পেয়ে দৌড় দেন। এরপর তাকে আটক করে নাজেহাল করা হয়।
তবে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসান মোহাম্মদ একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। সহকারী প্রক্টর থাকাকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় বিষয়টি জানতে তারা আইন অনুষদের ডিনের কাছে যান। তিনি পালাতে গিয়ে পড়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি। চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানও একই দাবি করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কোনো আন্দোলনে অংশ নেননি এবং সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কাউকে মামলা দেননি।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া মামলা গ্রহণ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, কোনো শিক্ষক বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তকালীন তার বেতন বন্ধ রয়েছে। কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি। তবে চাকসুর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাদের মতে, পরিস্থিতি আঁচ করে তিনি পেছনের পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!