ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কোমল পানীয় পান করিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। চক্রের আরও এক সদস্য পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সকালে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. রকি মিয়া (১৯) প্রতিদিনের ন্যায় যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাগেশ্বরীর দিকে রওনা দেন। পথে যাত্রীবেশে তিন ব্যক্তি তার অটোরিকশায় ওঠে। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা কৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কোমল পানীয় পান করায়। এতে চালক অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর নানা মো. রুস্তম আলী (৭৩) ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একটি সক্রিয় অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পায়। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী সড়কে যাত্রীবেশে বিভিন্ন যানবাহনে উঠে চালক ও যাত্রীদের টার্গেট করে অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গত ১২ জুন গভীর রাতে উপজেলার থানাঘাট এলাকার খয়বর মোড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চক্রের মূল হোতা ফেরদৌস রহমান অন্তর (২৮) ও তার সহযোগী মাসুদ মিয়া (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাড়ি বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া গ্রামে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অপর সদস্য মমিনুর রহমান (২৭), পিতা বাচ্চু মিয়া, গ্রাম বাঁশজানি, ইউনিয়ন পাথরডুবি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা পুলিশকে জানিয়েছে, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘ফারুক এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি শোরুমে বিক্রি করা হয়েছে। অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা চলমান রয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুন্তাসির মামুন মুন জানান , গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ চুরি ও ছিনতাই-সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা পুলিশের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply