ব্রহ্মপুত্রে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা, শীত ও নাব্যতা সংকটে চরম ভোগান্তি
আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
ঘন কুয়াশা, প্রচণ্ড শীত ও নাব্যতা সংকটের মধ্যেও কুড়িগ্রামের রৌমারী–চিলমারী নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা, খরা ও শীত—ত্রিকালেই চিলমারী নৌবন্দরের রমনা নৌঘাট থেকে পশ্চিম পাড়ের চিলমারী উপজেলা ও পূর্ব পাড়ের রৌমারী এবং চর রাজীবপুরের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ।
দীর্ঘদিন ধরে নৌকা ডুবির তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রয়োজনের তাগিদে ঝুঁকি জেনেই মানুষজন এই পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বুধবার চিলমারী থেকে রৌমারী ঘাট পর্যন্ত অনুসন্ধানমূলক যাত্রায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সংখ্যার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচল করছে, যা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
চিলমারী থেকে দুপুর ১টায় রৌমারীর কুটিরচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকায় দেখা যায়, যাত্রীরা ছইয়ের নিচে ও ওপরে গাদাগাদি করে বসে আছেন। অনেক যাত্রীকে ছইয়ের বাইরে ও গলুইয়ে দাঁড়িয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় পার করতে হয়েছে। এ সময় প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে মাঝেমধ্যে নৌকা চরে আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা যাত্রীদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
রৌমারীর কুটিরচর এলাকার বাসিন্দা মহির আলী বলেন,
“পূর্ব পাড়ের মানুষজনকে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও জরুরি কাজে চিলমারী, কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু নদী পারাপারে ভোগান্তির যেন শেষ নেই।”
তিনি আরও জানান, জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় নৌকায় যাত্রী বহনের নির্ধারিত সংখ্যার চেয়েও বর্তমানে দ্বিগুণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে।
নৌযাত্রাকালে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘন কুয়াশার মধ্যে সীমিত আকারে মানুষজনকে চলাচল করতেও দেখা গেছে। রৌমারী থেকে ফেরার পথে জানা যায়, দুপুর ১টার নৌকাটি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পুনরায় চলাচল করে।
এ বিষয়ে নৌকার মাঝি ও ঘাটের ইজারাদাররা জানান, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় যাত্রীদের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার প্রসঙ্গে তারা দাবি করেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
তবে অনেক নৌকা মালিক এ বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের স্বার্থপরতা ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বলেন, ইচ্ছা করলে নিয়ম মেনে একাধিক নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
নৌকা মালিক ও যাত্রী সাধারণ বিআইডব্লিউটিএ, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই নৌপথে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করা যায়।

Leave a Reply