হোম / অপরাধ
অপরাধ

গাইবান্ধার সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলন তীব্র উদ্বেগ: প্রশাসনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৭ বার


গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার করতেয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদী এলাকায় ব্যাপকভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের গোপন সমন্বয় ও মাসিক “টাকার বন্দোবস্ত” থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানো হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনে-দুপুরে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ কেটে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু কাকরা গাড়ীতে ভর্তি করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামের রাস্তা ও সড়ক নষ্ট করছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় নদী ভাঙনের ঝুঁকি, ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্ষতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কলেজ ছাত্র শরিফ মিয়া বলেন, “অবৈধ ড্রেজারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের জমি ও সড়ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।” নদী পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস যোগ করেন, “সরকারী ভাবে নদী খননের পরে আমাদের আশা ছিল নদী সুরক্ষিত হবে। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলন আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে।” কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, “ড্রেজারের শব্দ ও ট্রাক চলাচলের কারণে দিন-রাত স্বাভাবিক জীবন কষ্টকর হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি সাংবাদিক খ. ম. মিজানুর রহমান রাঙ্গা জানান, গত ১৩ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীরকে বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিকদের বক্তব্য থামিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে এলাকার অনিয়ম বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও প্রবল হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশরাফুল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে এই কাজে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি প্রশাসনিক তৎপরতা না বাড়ে, তবে নদী ভাঙন, রাস্তা ক্ষয় ও পরিবেশগত বিপর্যয় বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!