আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে ভর্তি, উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ
খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আক্তার আলী মোল্লা (৪০) নামে এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে বটিয়াঘাটা থানাধীন দারোগাভিটা এলাকার আলীনগর বিলের মধ্যে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত আক্তার আলী মোল্লা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দিন আরামবাগ/গল্লামারি এলাকার বাসিন্দা ও চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে। তিনি খুলনার বড় বাজার এলাকার একটি হোটেলে কর্মরত। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্তার আলী মোল্লা জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ভাগ্নে শাহেদের পরিচিত কয়েকজন তাকে ডেকে নেয়। পরে মোটরসাইকেলে করে বটিয়াঘাটা থানার দারোগাভিটা এলাকার একটি বিলের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৪-৫ জন মিলে তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দুই হাত ও পা চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাতের কব্জিতে একাধিক কোপ দেয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বাপ্পা রাজ বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আক্তার আলীর দুই হাতই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বাম হাতের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর-পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আহত আক্তার আলীর দাবি, হামলাকারীরা তার পূর্বপরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা ধারণা করেছিল যে, তিনি মাদক সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে সরবরাহ করছেন। এ সন্দেহ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারীরা তার পূর্বপরিচিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply