হোম / কৃষি ও প্রকৃতি
কৃষি ও প্রকৃতি

ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে সাফল্য পরিদর্শনে ডুমুরিয়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৮ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪৭১ বার


খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের সফলতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সময় তিনি বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষী ক্লাস্টার ঘুরে দেখেন এবং চিংড়ির হারভেস্টিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি চিংড়ি চাষীদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (খুলনা) মোঃ বদরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (বাগেরহাট) রাজকুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খুলনা বিভাগ) এইস এম বদরুজ্জামান এবং ডুমুরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও উপদেষ্টা মহোদয়কে সার্বিক ব্রিফিং প্রদান করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। তিনি বলেন, “পূর্বে চাষীদের উৎপাদন শতকপ্রতি মাত্র ১.৫ থেকে ২ কেজি ছিল। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শের ফলে বর্তমানে তা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে শতকপ্রতি ৬ থেকে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় চাষীরা ঘেরের গভীরতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাড় প্রশস্তকরণ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার, উন্নতমানের পিএল ও গুণগতমানের খাদ্য ব্যবহার করছেন।”
চিংড়ি চাষী মিতালি মন্ডল বলেন, “কোস্টাল প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য অফিসের স্যারদের পরামর্শে এখন আমরা অনেক ভালো আছি। উৎপাদন বেড়েছে, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি আমরাও সংসারে অবদান রাখতে পারছি।”
আরেক চাষী শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, “স্যারেরা আমাদের চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন—পানির গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভালো মানের পিএল এবং গুণগতমানের খাদ্য। এগুলো মেনেই আমরা সফল হচ্ছি। প্রয়োজনে মৎস্য অফিসে জানালে স্যারেরা দ্রুত সহযোগিতা করেন। আমাদের এলাকায় কোস্টাল প্রকল্পের মতো আরও প্রকল্প প্রয়োজন।”
ডুমুরিয়া উপজেলার ইউএনও সবিতা সরকার বলেন, “মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের আগমনে আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। ডুমুরিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা, যা মৎস্য চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “নারীরা মাছ ও চিংড়ি চাষে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নত করছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের। আমাদের নিরাপদ মাছ উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার মৎস্য ও চিংড়ি চাষীদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
এ সময় ক্লাস্টারভুক্ত চিংড়ি চাষী সুজিত বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, মারুফ সরদার, দীপঙ্কর গাইন, দীপংকর মিস্ত্রী, শিউলি মন্ডল, বিথিকা মন্ডল, লাভলি মন্ডল, কল্পনা মন্ডল, মিতা বিশ্বাস, নয়ন বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ জন চাষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!