হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা হাসপাতালেতদন্তের নামে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে অভিযোগকারী কর্মচারীরা

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০২ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২৭৩০ বার


নিউজ ডেস্কঃ
কুড়িগ্রাম সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের নামে অর্থ বাণিজ্য এবং হয়রানির গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী ও অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোঃ ইউনুছ আলী প্রায় ২২ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে উচ্চমান সহকারী মোঃ আকতারুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই হাসপাতালে কর্মরত। দীর্ঘ সময় একই স্থানে থাকার সুযোগ নিয়ে তারা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই হুমকি-ধামকি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। উপায় না পেয়ে শতাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্স, কর্মচারী ও স্থানীয় জনগণ রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
কিন্তু অভিযোগের পরপরই নতুন বিড়ম্বনার মুখে পড়েন অভিযোগকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় পরিচালক দীর্ঘদিন অভিযোগ ঝুলিয়ে রাখেন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে পরিস্থিতির চাপে পড়ে গত ৩ ডিসেম্বর স্মারক নং পরি:(স্বাস্থ্য)/রংবি/প্রশা:/অভিযোগ তদন্ত/২০২৫-২১৮৬ মূলে লালমনিরহাট সিভিল সার্জনকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম স্মারক নং সিএস/লাল/প্রশা:/২০২৫/৫০৩৫/৩, তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং প্রথমে পরিকল্পিতভাবে একজন নির্দোষ স্টোর কিপারের নাম যুক্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ে পরে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
গত ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত টিম কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে তদন্তে আসে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের উপস্থিতিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাইরে পাঠানো হলেও তদন্তকালে তাদের স্ত্রীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও স্বাক্ষর গ্রহণের পর শতাধিক ফটোকপি করে সেগুলো অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তদন্তকারী দলের প্রধান লালমনিরহাট সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দীপঙ্কর রায়ের নির্দেশে তার অফিসের ক্যাশিয়ার মুকুল মিয়া এসব ফটোকপি করেন। পরবর্তীতে ওই ফরম ব্যবহার করে ভূয়া নাম ও স্বাক্ষর সংযোজনের মাধ্যমে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগকারীদের আশঙ্কা।
অভিযোগকারীরা জানান, তদন্তকারী প্রধান একে একে তাদের লালমনিরহাট ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং তদন্ত বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযুক্তরা প্রায় প্রতিদিন লালমনিরহাট যাতায়াত করে তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—
বদলি ও যোগদানে ছাড়পত্র দিতে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা আদায়
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্টার্নশিপে ১০ হাজার টাকা করে আদায়
প্রায় ১৫০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের কাছ থেকে মাসিক বিল বাবদ ৪০০ টাকা
শ্রান্তি বিনোদনের নামে ৪ হাজার টাকা
সাধারণ ও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আলাদা অর্থ আদায়
কেবিন ভাড়া ও রশিদে গরমিল করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “তদন্ত কমিটি সরকারি বিধি অনুযায়ী সঠিকভাবে তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।” তবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে তদন্তকারী প্রধান ডা. দীপঙ্কর রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন—এটি তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগকারীরা দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!