ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে প্রথমবার অংশ নিয়েই তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পান ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। অপরদিকে চারবারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম মোস্তাফিজুর রহমান লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৭ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৭টি। নিয়ম অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়। সে হিসেবে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারিসুল বারি রনি (হাতপাখা প্রতীক, ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট), জাকের পার্টির আব্দুল হাই (গোলাপ ফুল প্রতীক, ২ হাজার ৯০৭ ভোট) এবং গণঅধিকার পরিষদের বিন ইয়ামীন মোল্লা (ট্রাক প্রতীক, ২৩১ ভোট)। যদিও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভোটের দুই দিন আগে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিএনপির প্রত্যাশা ছিল বেশ উঁচু। জোরালো প্রচারণা, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সক্রিয় উপস্থিতি দলীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের দুর্গ এবার বিএনপির দখলে যাবে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর সেই হিসাব বদলে যায়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদক্ষতা, গ্রুপিং, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতাকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তৃণমূলের অনেকে।
বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীর ভাষ্য, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীর একাংশ নেতা সক্রিয় থাকলেও অন্য অংশ ছিল নিষ্ক্রিয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি থাকলেও কার্যকর মাঠপর্যায়ের সমন্বয় গড়ে ওঠেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “প্রচারণা ছিল, কিন্তু ঐক্য ছিল না। ভেতরের দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পরাজয়ের জন্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আমার হারার পেছনে জেলা আহ্বায়কের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটিকে আমাকে হারাতে প্রভাবিত করা হয়েছে। শুধু আমার আসন নয়, কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে ভরাডুবি হয়েছে।”
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে কুড়িগ্রাম-1 আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম-১ আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির পরাজয়, জামানত হারালেন ৩ প্রার্থী
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ২৬ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply