হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৮৬ বার

স্টাফরিপোর্টার,কুড়িগ্রামঃ

কৃড়িগ্রাম পৌসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন (টিআর) কর্মসূচীর অর্ধকোটি টাকা নামে মাত্র প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির ও আত্মসাতের ঘটনায় শহরের জনগনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ আত্মসাতের ঘটনায় অবিলম্ভে তদন্ত করে কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি উঠেছে।

অভিযোগে জানা গেছে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ৪ শত ২২ টাকা ও পরে ২য় পর্যায়ে আরো ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৯ শত ৮৩ হাজার মোট টাকা ৫২ লাখ ৩২ হাজার ৪ শত ৫ টাকা গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন কর্মসূচীর জন্য বরাদ্দ দেয়। এতে প্রকল্পের কাজের ধরণ ও পরিধি অনুসরণ বিশেষ করে বিগত বছরের বাস্তবায়িত কাবিখা প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, বাঁধ ও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ, নালা নির্মাণ, সংস্কার ও নর্দমা খনন এবং সংরক্ষণ। ধর্মীয় শিক্ষা ও জনকল্যাণ মূলক প্রতিষ্ঠান সমুহ মেরামত উন্নয়ন স্যানেটারী ল্যাট্রিন নির্মাণ, গ্রামীন যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার্থে বাঁশ কিংবা কাঠের সাঁকো নির্মাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রাপ্তির জন্য নলকুপ প্রতিষ্ঠাসহ ২০টি নির্দেশনা জারি করেছিল।

কিন্তু পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুদরত-ই-খুদা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে নিজের লোকজনদের দিয়ে মনগড়া প্রকল্প তৈরী করেন। শুধু তাই নয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিধি বহির্ভূতভাবে পৌরসভার ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীসহ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের সভাপতি করে প্রকল্প কমিটি দাখিল করেন। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থেকে টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে। এতেও ক্ষ্যান্ত হননি কর্মকর্তারা। কুড়িগ্রাম পৌরসভায় জন প্রতিনিধি না থাকার সুবাদে প্রশাসকের উপস্থিতিতেও অবৈধ ভাবে প্রধান নির্বাহী দৃশ্যমানহীন প্রকল্প গুলোর প্রকল্প গ্রহন, অনুমোদন ও কমিটি অনুমোদন দিয়ে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান। পৌর এলাকায় মোট ২৩টি প্রকল্প অনুসন্ধান করে করে দৃশ্যমান কোন কাজ পরিলক্ষিত হয়নি। তবে গত অর্থ বছরের জেলা ত্রাণ গুদাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র হতে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পরেও চলতি অর্থ বছরে একই প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এতেও ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা প্রকল্পের সমুদয় আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে একাধিক প্রকল্পের সভাপতি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আকতার এর সাথে কথা হলে অনিয়মের বিষয় অকপটে তিনি স্বীকার করে তিনি পৌর প্রশাসক ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। তিনি আরও যোগ করেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের যা নির্দেশ তিনি তাই করেছেন।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী জানান টিআর প্রকল্পের সব দায়-দায়ীত্ব পৌর প্রশাসকের। আমি এর বেশি কিছু জানিনা।

পৌর প্রশাসক কুদরত-ই-খুদার সাদের তার মুঠো ফোনে ০১৭৯৬১০১২১২ হতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রেসিভ করেন নি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!