হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছয়জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল

প্রকাশ: 1 January 2026, 01:53 AM পড়া হয়েছে: ১৬১৬৯ বার
কুড়িগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছয়জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল
কুড়িগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছয়জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছয়জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করেছে সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তার দায় কার? আর সেই অর্থ কি আদায় করা হবে?

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একজন মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গেজেট বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই অন্তত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে নিয়মিত এই ভাতা গ্রহণ করে আসছিলেন।

সে হিসাবে একজন ব্যক্তি গড়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ১০ বছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন। ছয়জনের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক দাঁড়ায় আনুমানিক এক কোটি টাকার কাছাকাছি। এর বাইরে ছিল ঈদ ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা, সম্মানী কার্ড, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ ও সামাজিক মর্যাদা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গেজেট বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। তবে অতীতে নেওয়া ভাতা ফেরত আনার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় যে কেউ জেনেশুনে ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ভাতা ফেরত আনার সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।’

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে। জেলা পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা যাচাই কমিটি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্তির সময় কীভাবে তারা এত বছর ধরে তালিকায় রয়ে গেলেন—সে প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তারা অনেক আগেই তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তখনকার যাচাই প্রক্রিয়ায় যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।’

সুশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু গেজেট বাতিল করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির পেছনে প্রশাসনিক গাফিলতি, সুপারিশ বাণিজ্য বা দুর্নীতি ছিল কি না—তা তদন্ত করা জরুরি।

জেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে তাঁদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে ভুয়াদের এক কাতারে দাঁড় করানো খুবই অপমানজনক।’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু কুড়িগ্রাম নয়—সারা দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিতকরণ, ভাতা ফেরত এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!