হোম / জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন

কুড়িগ্রামে নারী প্রার্থী নেই, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এনসিপির নাসিরা খন্দকার নিসাকে মনোনয়নের দাবি

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২৯৫ বার


ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম সংসদীয় আসনে নারীদের কথা বলার মতো কার্যকর কোনো নারী প্রার্থী না থাকায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাসিরা খন্দকার নিসাকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে কুড়িগ্রাম ১ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠেছে।

জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের পর্যবেক্ষণ এবং নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে নারীদের সমস্যা, অধিকার ও সম্ভাবনা জাতীয় সংসদে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, কুড়িগ্রাম–১ আসন দীর্ঘদিন ধরে জোট-রাজনীতির সমঝোতার প্রার্থীদের দ্বারা প্রতিনিধিত্ব হওয়ায় সংসদে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি-দাওয়া বারবার উপেক্ষার শিকার হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে নাসিরা খন্দকার নিসাকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, তিনি কেবল একজন নারী প্রার্থী নন—তিনি নারীদের কণ্ঠস্বর ও পরিবর্তনের প্রতীক। নারীদের বেকারত্ব দুরিকরনে ১৫ বছর থেকে বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং এর মধ্যমে উদ্দোক্তা তৈরি করছেন।

বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলেও কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সাধারণ আসনে এখনো কোনো নারী জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। স্থানীয় নারীনেত্রী ও সচেতন মহলের মতে, সংরক্ষিত আসনের বাইরে সাধারণ আসনে একজন যোগ্য নারী প্রার্থীকে সুযোগ না দিলে নারীর প্রকৃত নেতৃত্ব বিকশিত হবে না।

এ বিষয়ে নাসিরা খন্দকার নিসা বলেন, “নারীর অধিকার দয়ার বিষয় নয়, এটি সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। নারীরা নিজের কথা নিজেরাই বলবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমি রাজনীতিতে সক্রিয়।”

তিনি একজন শিক্ষিত সংগঠক ও সফল নারী উদ্যোক্তা। নিজ উদ্যোগে তিনি শত শত নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে নারী, যুবক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চর এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা ক্যাম্প, অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু, চর শিল্প উন্নয়ন, নারীদের বেকারত্ব দূরীকরণে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ এবং যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম–১ একটি অবহেলিত জনপদ। এখানে কর্মসংস্থানের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পকারখানা বা প্রতিষ্ঠান নেই। নারীরা যেন স্বাবলম্বীভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্নীতির প্রসঙ্গে নাসিরা খন্দকার নিসা বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও সেবার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে কিছু কর্মকর্তা- কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধির সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। এসব প্রতিরোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের সামনে সকল দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

নারীদের পর্দা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পর্দা নারীর মনের ব্যাপার, এটি কোনো বাহ্যিক চাপের বিষয় নয়। আমাদের উত্তরাঞ্চলের নারীরা ভদ্র ও মার্জিত। তারা যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেভাবেই তাদের কর্ম পরিচালনা করবে।”

কুড়িগ্রাম–১ আসনের তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত থাকায় মাদক, গরু পাচার ও চোরাচালানের মতো অপরাধ সংঘটিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী ও অপরাধবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “রংপুর বিভাগে নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে এখনো এক ধরনের উদাসীনতা ও পিছিয়ে থাকা ভাব রয়েছে। কুড়িগ্রাম–১ আসন থেকে সেই অবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে চাই। নারীরাও পারে, নারীরাও দেশের উন্নয়নের সমান অংশীদার।”

স্থানীয় জনমত, তৃণমূল জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নাসিরা খন্দকার নিসাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকবেন না, বরং উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যবধানে বিজয়ের বাস্তব সম্ভাবনাও রাখেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুড়িগ্রাম–১ আসনে নারীদের কথা বলার মতো একজন সাহসী, যোগ্য ও জনভিত্তিসম্পন্ন নারী প্রার্থী হিসেবে নাসিরা খন্দকার নিসাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!