রফিকুল হায়দার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বন্যা শেষ হলেও ভোগান্তি কমেনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা এলাকায়। বেলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর ধনঞ্জয় ব্রিজের সংযোগ সড়কটি বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আজও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটি সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসেনি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
ব্রিজ ভাঙা, চলাচলে অস্থায়ী সাঁকো — দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর ধনঞ্জয় ব্রিজটি বেলগাছা গ্রামকে মূল সড়কের সঙ্গে যুক্ত করে। বন্যায় সড়কের এক পাশ ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল চালু রাখলেও সেটিও এখন নড়বড়ে ও পিচ্ছিল, বিশেষ করে স্কুলের শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রিনা আক্তার বলেন, “সাঁকো দিয়ে হাঁটতে খুব ভয় লাগে। কয়েকদিন আগে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম।”
অভিভাবক রহিম মিয়া জানান, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাই কিন্তু মনে ভয় থাকে। কখন পড়ে যাবে কে জানে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা অর্থ বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখান। এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে বলেছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ হচ্ছে না।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নির্বাচিত চেয়ারম্যান বেশিরভাগ সময় এলাকায় থাকেন না, ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ ব্যর্থ সংযোগ সড়ক সংস্কার বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে ফোন ও সরেজমিনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কল রিসিভ করা হয়নি, বার্তাও গ্রহণ করা হয়নি।
বেলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম বলেন “প্রতিদিন ১০০’র বেশি শিক্ষার্থী এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসে। কোনো দুর্ঘটনা হলে কে দায়িত্ব নেবে? দ্রুত রাস্তা সংস্কার জরুরি।”
সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা মনে করেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগের মাধ্যমে রাস্তাটি মেরামত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


Leave a Reply