হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসামিদের পুনর্বহাল চেষ্টায় বিদ্যালয়ে উত্তেজনা,আপিল গোপন রেখে যোগদানের চেষ্টা, শিক্ষক-অভিভাবকদের তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৯৮ বার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসামিদের পুনর্বহাল চেষ্টায় বিদ্যালয়ে উত্তেজন,আপিল গোপন রেখে যোগদানের চেষ্টা, শিক্ষক-অভিভাবকদের তীব্র প্রতিবাদ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসামিদের পুনর্বহাল চেষ্টায় বিদ্যালয়ে উত্তেজন,আপিল গোপন রেখে যোগদানের চেষ্টা, শিক্ষক-অভিভাবকদের তীব্র প্রতিবাদ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আলোচিত এসএসসি ২০২২ সালের প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার আসামি প্রধান শিক্ষকসহ সাতজন শিক্ষক-কর্মচারীর পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, মোঃ হামিদুর রহমান, মোঃ সোহেল আল মামুন, খণ্ডকালীন শিক্ষক মোঃ জোবাইর হোসেন, অফিস সহকারী মোঃ আবু হানিফ এবং নিরাপত্তা কর্মী মোঃ সুজন দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের কাছে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে আসছিলেন। ২০২২ সালের এসএসসি ইংরেজি ২য়পত্র পরীক্ষার সময় প্রশাসনের হাতে তারা গ্রেফতার হন।
এ ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় দি পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেন্স) অ্যাক্ট ১৯৮০ এর ৪/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯)। পরে স্বাক্ষীগনের স্বাক্ষী ও গোপন তদন্ত শেষে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি (তদন্ত) আজাহার আলী ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম দায়রা জজ আদালতে আপিল করে (মামলা নং-২৮/২০২৬)।
অভিযোগ উঠেছে, আসামিরা আপিলের বিষয়টি গোপন রেখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পুনর্বহালের আদেশ নিয়ে গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করেন। তারা বিদ্যালয়ের সিলমোহর তৈরি করে হাজিরা খাতা ও নোটিশ বই প্রস্তুত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান পলাশকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এতে অস্বীকৃতি জানালে বরখাস্তকৃতরা পেশি শক্তির হুমকি দেন। এ সময় অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা নিজেদের মধ্যে উপস্থিতি দেখিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের স্ট্যাটাস দেন।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বরখাস্তকৃত শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
৩১ মার্চ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে পুনরায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপচেষ্টা হতে পারে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান পলাশ বলেন,“যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত ও যাচাইকৃত নির্দেশনা ছাড়া কাউকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ সাইফুর রহমান জানান, আপিল মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বরখাস্তকৃতদের যোগদান বৈধ নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন,“বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হবে। এ নিয়ে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বরখাস্তকৃত শিক্ষকদের বেকসুর খালাস আদেশ বাতিল ও বেতন বন্ধকরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!