হোম / অপরাধ
অপরাধ

উপেক্ষিত কুড়িগ্রাম ডিসির নির্দেশ’ব্যক্তি মালিকানা জমির গাছ কাটা ও জবরদখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ চিলমারী ইউএনও’র বিরুদ্ধে

প্রকাশ: 5 October 2026, 07:54 AM পড়া হয়েছে: ২৮ বার
Oplus_16908288

জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ভূমিদস্যুর দখলকৃত স্কুলের রাস্তা উদ্ধার না করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। নতুন রাস্তা নির্মাণের নামে জোরপূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির দেড় লক্ষাধীক মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগ ওঠেছে ইউএনও মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগের উপেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সঠিক সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়ার এক মাস পরও তা বাস্তবায়ন করেনি ইউএনও। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তাটি দখল হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলের রাস্তাসহ পাশের খাস জমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে দখলে নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাবেক সহ- সভাপতি আইনুল হক মোল্লা, তার মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম ও মেয়ে বিউটি বেগম।অভিযোগ উঠেছে, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে স্কুলের রাস্তা উদ্ধার না করে ইউএনও প্রভাবিত হয়ে রেজাউল করিমের ব্যাক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।শুধু তাই নয় এক প্রকার গায়ের জোরে গত ১৭ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাহমুদুল হাসান নির্দেশ দিয়ে জমির তিনটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ গাছ কাটায় মানা হয়নি কোন সরকারি বিধিবিধান।

এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে জমির মালিক রেজাউল করিম কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে ২৪ আগষ্ট লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পরিপেক্ষিতে জেলা প্রশাসক জমির সিমানা নির্ধারণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ৩ সেপ্টম্বর রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সাক্ষরিত একটি চিঠি সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জন্য ইউএনওকে নির্দেশনা দেন। দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইউএনও মো: মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মন্ডল মিয়া(৬০), শামসুল হক(৭০),সাহেব উদ্দিন (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিবালোকের মতো সত্য স্কুলের রাস্তা জবরদখল করে বাড়ির সীমানার ভিতর নিয়েছে আিনুল মোল্লা ও জাহাঙ্গীর। তারা ভূয়া বন্দোবস্ত দেখিয়ে খাস জমি দখল করে আছে । এখন সরকারী খাস জায়গার রাস্তা উদ্ধার না করে ইউএনও রেকর্ডকৃত জমিতে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। গাছ কাটার আগে জমির মালিকের অনুমতি নেয়নি। এমনকি স্হানীয় অধিবাসীদেরও করা হয়নি জিজ্ঞাসাবাদ। সরকারী খাস জমির রাস্তা উদ্ধার না করে ব্যক্তি মালিকানা জমি জোরপূর্বক দখলের ইউএনওর নির্দেশের বিরোধিতা করেন তারা।

ভূক্তভোগী ও জমির মালিক রেজাউল করিম বলেন, রেকর্ডিয় সূত্রে আমি এই জমির মালিক। খাস জমির স্কুলের রাস্তাটি দখল হয়ে যাওয়ার পর থেকে এটি উদ্ধারে ডিসি অফিস পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। দখলদারের ছেলে ইউএনও (মাইদুল ইসলাম ইউএনও দোহা) হওয়ায় প্রশাসনিকভাবে রাস্তা উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আমার রেকর্ডকৃত জমি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও । তার নির্দেশে আমার জমির তিনটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে ২৫ আগষ্ট থানায় অভিযোগ করি। চিলমারী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর বাবুল আহমেদ ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পান। সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকায় মামলার আগে তিনি আমাকে সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেন। কিন্তু ইউএনও’র পক্ষপাতিত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের কারণে সীমানা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তিনি দুর্নীতিবাজ ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

চিলমারী মডেল থানার এসআই বাবুল আহমেদ ও তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সরেজমিনে গিযেছিলাম গিয়ে শুনেছি ইউএনও স্যার বলেছেন স্কুলের রাস্তা করা জন্য গাছ গুলো কাটার জন্য। বিবাদী দাবি করছেন তাদের সীমানায় গাছ থাকায় কাটা হয়েছে। বাদী রেজাউল করিমকে সীমানা নির্ধারন করে নিতে বলা হয়েছে। সীমানা নির্ধারন হওয়ার পর তার পক্ষে হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ফরিশ মিয়া, মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার সময় উপস্থিত সবাইকে জানানো হয়েছে, এই গাছ ইউএনওর হুকুমে কাটা হচ্ছে। গত ১৭ আগষ্ট গাছ কাটার দিন জমির মালিক রেজাউল করিম চিলমারী থানায় ফোন দিলে এসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে এসে গাছ কাটতে নিষেধ করেন। পরে তিনিও নিশ্চিত করে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনকে বলে গেছেন, এই গাছ ইউএনওর হুমুকে কাটা হচ্ছে, তাই আমাদের করার কিছু নেই। যা বলার ইউএনও স্যারের সাথে বলুন।

পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজ বীন রানু বলেন,আমি এই বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে যোগদান করি। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১২ জন। বিদ্যালয়ে আসার কোন রাস্তা নেই। মানুষের বাড়ির ভিতর দিয়ে এবং আবাদি জমি মাড়িয়ে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। আর একটু বন্যা হলেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন পার্শ্ববর্তী শামসুল হকের বাসায় অস্থায়ী স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি দাবী করে আরো বলেন, স্কুলে আসার জন্য একটা সুন্দর রাস্তা ছিলো ব্রীজের মাথা থেকে স্কুল পর্যন্ত। এই রাস্তায় ২০১৬ সাল থেকে আমি ২০২০ সালে করোনায় স্কুল বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যাতায়াত করতাম। করোনা শেষে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে দিলে স্কুলে এসে হতবাক হই। রাস্তা হাওয়া হয়ে গছে। পার্শ্ববর্তী বাড়ির আইনুল ইসলাম মোল্লা এবং জাহাঙ্গীর স্কুল আসার রাস্তা তাদের বাড়ির ভিতরে ইটের দেয়াল ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়। ফলে স্কুলে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এঘটনা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে এবং ইউএনও অফিসে অনেকবার আবেদন নিবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। ফলে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও)মো: মাহমুদুল হাসান ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সরকারি নম্বরে মেসেজ দেয়া হলেও রিপ্লাই পাওয়া যায়নি।দুদিন থেকে তিনি ফোন রিসিভ না করায় রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার কার্যালয় সরেজমিন গেলে দেখা যায় ইউএনও’র চেম্বারে তালা। পরে চিমারী উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নাসিম উদ্দিন বলেন, ইউএনও স্যার ঢাকায় মিটিংয়ে গেছেন। মিটিং শেষ হলে তিনি অফিসে আসবেন। আজ শেষ হলে কাল আসবেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুইটি পরিবার অন্যায় ভাবে সরকারি খাসজমি সহ স্কুলের রাস্তা দখল করে নিয়েছে। ইউএনও সরকারি জমি এবং স্কুলের রাস্তা উদ্ধার না করে উল্টো ব্যাক্তি মালিকানা জমির উপর রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। গাছ কাঁটারও অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৮ সালে। তখন থেকে ব্রীজের মাথা থেকে একটি রাস্তা স্কুল পর্যন্ত সংযোগ ছিলো। ২০০০ সালের দিকে আইনুল ইসলাম মোল্লা এবং তার জামাতা জাহাঙ্গীর সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের ৩৬ শতক জমি দখল করে বাড়ি করে। ৪/৫ বছর আগে দখল করতে করতে এক পর্যায়ে স্কুলের রাস্তাও নিজ বাড়ির বাউন্ডারির ভিতরে নিয়ে নেয়। মুলত দখলদার আইনুল মোল্লার ছেলে মাইদুল ইসলাম ঢাকা দোহা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। তার ব্যাসমেট মাহমুদুল হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে ইউএনও মহোদয়ের দুর্বলতা কলিগের প্রতি। এ কারণে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!