হোম / রাজনীতি
রাজনীতি

আসন সমঝোতায় অচলাবস্থা: যুগপৎ মিত্রদের স্পষ্ট অবস্থান চাই, আজ বিএনপির সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১২৭৪৫ বার

নিউজ ডেস্কঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলেও বিএনপি ও তাদের যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শরিকদের জন্য কতটি আসন ছাড়বে—এ বিষয়ে বিএনপির ‘স্পষ্ট’ অবস্থান জানতে চায় মিত্ররা। এ নিয়ে জোটে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা ও টানাপোড়েন। পরিস্থিতি নিরসনে মুলতবি বৈঠকটি আজ শনিবার বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বুধবার যুগপৎ আন্দোলনের ২৯টি দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানতে চাওয়া হবে, তারপর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির ডাকা বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতিতে হয়নি। জানা গেছে, আজকের আলোচনায় সমঝোতা হলে জোটের ঐক্যের স্বার্থে ঘোষিত দু–একটি আসনে প্রার্থিতা পরিবর্তনও আনতে পারে বিএনপি, যা কিছু মিত্রের জন্য ‘সুসংবাদ’ হতে পারে।

এদিকে এই টানাপোড়েনের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে জামায়াতে ইসলামী। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা যুগপৎ জোটের মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হলে তাদের কাউকে কাউকে দলীয় প্রার্থী করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক জোটে বোঝাপড়ার ঘাটতি থাকতেই পারে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এখনো হয়নি। যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ মনে করছে। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী জোটভুক্ত দলগুলোকে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট করতে হবে—এ বাস্তবতায় প্রতীক ইস্যু বিএনপিকে ভাবাচ্ছে। দলটির মতে, ধানের শীষের মতো অন্য দলের প্রতীক মাঠে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই বিজয়ের সম্ভাবনা আছে—এমন শরিকদেরই আসন ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্তে আছে বিএনপি। একই সঙ্গে জোটের ঐক্য ধরে রাখতে মনোনয়ন না পাওয়া শরিকদের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্তির ভাবনাও রয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭ আসন ও দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে—মোট ২৭২ আসন। এখনো ফাঁকা রয়েছে ২৮টি আসন, যেগুলোতে মূলত শরিকদের প্রার্থী দেওয়ার কথা। তবে জোট নেতাদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। অন্তত ছয়টি আসনে অনিবন্ধিত দল ও জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও বিএনপি আসন ছাড়েনি।

এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরামসহ ২৯টি দল বৈঠক করে। বৈঠকে নেতারা বলেন, উচ্চকক্ষ নয়—তারা সরাসরি নির্বাচন করে সংসদে যেতে চান। রাজপথের আন্দোলন–সংগ্রাম ও ত্যাগের ‘ন্যায্য মূল্যায়ন’ দাবি করেন তারা।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, এটি দয়া–দাক্ষিণ্যের প্রশ্ন নয়; ন্যায্যতা, মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। সামনে বড় ঝুঁকি আছে—সেখানে ঐক্য জরুরি। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, আজকের বৈঠকে মূল আলোচ্য হবে—শরিকদের জন্য কতটি আসন ছাড়বে বিএনপি। এ বিষয়ে তারা ন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন।

২০১৮ সালে বিএনপি শরিকদের জন্য ৫৯টি আসন ছেড়েছিল। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১৫টির মতো হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান; জামায়াতের বাইরে দু–একটি ইসলামী দলও জোটে যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!