স্টাফ রিপোর্টার:
বর্তমান সমাজে যোগ্যতার পরিবর্তে অযোগ্য বা অপরিপক্ব ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণপুর ইউনিয়নের এক অশিক্ষিত, মুর্খ,রাজ মিস্ত্রির হেল্পার প্রতিবন্ধী তাইজুল ইসলাম তাজুলকে ঘিরে ব্যাপক ভাইরাল প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাকে কেন্দ্র করে দিনরাত প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, মানবিক সহানুভূতি দেখানো অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন কেবল ‘ভাইরাল’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো সমাজের বাস্তব সমস্যা, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো সামনে আনা। ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত প্রচারণা অনেক সময় মূল সমস্যাগুলোকে আড়াল করে দেয়।
একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, “যোগ্যতা বিবেচনা না করে কাউকে ক্ষমতায় বসানো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি মানবিক ইস্যুকে শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার হাতিয়ার বানানোও ঠিক নয়। এতে সমাজে ভুল বার্তা যায়।”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে প্রকৃত সমস্যা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে হবে।
সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে আবেগ নয়, প্রয়োজন বিবেকনির্ভর সিদ্ধান্ত। অন্যথায় অযোগ্য নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্যহীন প্রচারণা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply