নওগাঁ প্রতিনিধি | ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
নওগাঁ শহরের অন্যতম ব্যস্ততম এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে জেলখানা সড়কটি অবশেষে অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের উভয় পাশের অবৈধ যানবাহনের গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা এই সড়কের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন নওগাঁবাসী। সম্প্রতি নওগাঁর নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিশেষ উদ্যোগে সড়কটি পুরোপুরি দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শহরবাসী।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান
বালুডাঙ্গা থেকে জেলখানা সড়কটি নওগাঁর একটি প্রধান আন্তঃআঞ্চলিক মহাসড়ক। এই সড়কের দুই পাশে সরকারি শিশু এতিমখানা, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুদক অফিস ও জেলা জেলখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং অসংখ্য কারখানা রয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে যাতায়াতের এটিই একমাত্র প্রধান পথ।
সরকার সড়কটি প্রশস্তকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করলেও, উভয় পাশে বাস, ট্রাক ও রোলার মেরামতের কারখানাগুলো সড়কটির মাঝের অংশ অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করত। ফলে প্রশস্ত আধুনিক সড়কটিও বছরজুড়ে যানজটপূর্ণ ও বিপজ্জনক ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সামাদ জানান, আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে চলাচল করতে হতো এবং মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটত।
এসপি’র প্রশংসনীয় পদক্ষেপ
একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এবং সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সড়কটি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সদ্য যোগদান করা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই সমস্যা নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
এসপি জানান, কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করা সড়কের সুবিধা কতিপয় ব্যক্তির অবৈধ দখলের কারণে মানুষ পাবে না—এটা হতে পারে না। তিনি নওগাঁ শহরকে যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগকে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দেন। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা ট্রাফিক পুলিশ বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বরুনকান্দি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহনগুলো অপসারণ করেছে। অপসারণের সময় একটি রোড রোলার ছাড়া অন্য সকল গাড়ি মালিক স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিলেও, পরে রেকারের মাধ্যমে সেটিকেও পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়।
জনগণের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
বর্তমানে জেলখানা সড়কটি সম্পূর্ণ ফাঁকা এবং যান চলাচল স্বাচ্ছন্দ্যে হচ্ছে। এমন দুষ্কর কাজ সাধন করায় নওগাঁর সচেতনমহল নবাগত পুলিশ সুপারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বালুডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সামাদ এই পরিস্থিতিকে ‘স্বপ্নের মতো’ উল্লেখ করে বলেন, “এখন প্রতিটি যানবাহন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছে। এমন অবস্থা যেন সব সময় থাকে, তবেই আধুনিক সড়কের সুবিধা পুরোটা উপভোগ করা যাবে”।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ শহরকে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ করতে জেলা ট্রাফিক পুলিশ বদ্ধপরিকর। তিনি শহরবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যেখানে সেখানে পার্কিং বন্ধ করা এবং দোকানের মালামাল রাস্তার ওপর না রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয় এবং এই ধরণের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply