ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট (ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ) ক্ষমতায় এলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই বৈষম্য আর চলতে দেওয়া হবে না।
পথসভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে ৯ নম্বর অর্ডিন্যান্স ২-এর ধারার আলোকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রেশন লাভ করে। বর্তমানে এসব মাদ্রাসায় এনসিটিবি প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় পাঠদান করা হচ্ছে।
অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একসময় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো উপবৃত্তি ও ফিডিং সুবিধা পেত, যা অজানা কারণে ২০২২ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১৯৯৪ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১,৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষককে একই পরিপত্রে ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো আজও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছেন।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ করা হবে এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
কুড়িগ্রাম
১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হবে : অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৩৮ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply