নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে টানা ৯ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট খাতের মানুষজন। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং প্রতিদিন সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ১১৮ ট্রাক পাথর আমদানির পর থেকেই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বন্দরে আর কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির দক্ষতার অভাব, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং ওয়্যারহাউস জটিলতার কারণে বন্দর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে পাথর আমদানিতে লোকসান বাড়তে থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রোমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সফিকুল ইসলাম ও মাসুম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুম রানা জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে পাথরের ওজন বৃদ্ধি পায়। এতে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি জরিমানাও গুনতে হচ্ছে। ফলে তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
তারা বলেন, প্রতি টন পাথর প্রায় ১ হাজার টাকায় আমদানি করে দেশে এনে ভেঙে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়। সামান্য ওজন বৃদ্ধি পেলেই অতিরিক্ত কর ও জরিমানার বোঝা চাপছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই পাথর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। কাজ না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় ধরনের লোকসানে।
সোনাহাট স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জহির রায়হান সিদ্দিক জানান, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্যের ওজন নির্ধারণে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। ওয়্যারহাউসে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ওজন নির্ধারণ হওয়ায় সফটওয়্যারে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দর সচল রাখতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আকমল বলেন, সংকট নিরসনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা যাচ্ছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থলবন্দরটি দীর্ঘমেয়াদে অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক
সোনাহাট স্থলবন্দরে ৯ দিন অচলাবস্থা: বেকার ২ হাজার শ্রমিক, রাজস্বে বড় ধসঃভারতীয় সিন্ডিকেট, ওয়্যারহাউস জটিলতা ও সমন্বয়হীনতায় স্থবির বন্দর কার্যক্রম
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৫১৪ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply