হোম / আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

সিন্দুরমতি তীর্থধামে কাদা থেকে উঠে আসছে ইতিহাস!

প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৩৬ বার

রাজারহাট প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সিন্দুরমতি এলাকায় পুকুর খননের সময় বেরিয়ে আসছে শতবর্ষ প্রাচীন মূল্যবান নিদর্শন। বৃষ্টির কারণে নরম হয়ে যাওয়া কাদামাটি থেকে একের পর এক ভেসে উঠছে প্রাচীন মূর্তি, স্বর্ণালংকার ও মানতের মুদ্রা—যা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি পুকুর খনন কাজ শুরু হয়। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পুকুরের তলদেশের মাটি নরম হয়ে গেলে হঠাৎ করেই কাদা থেকে ভেসে উঠতে শুরু করে বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকেন।


স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, “আমি নিজেই পুকুর থেকে এক জোড়া প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার করেছি। এরপর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। প্রতিদিনই নতুন কিছু পাওয়ার আশায় অনেকে কাদা খুঁড়ছেন।”


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উদ্ধার হওয়া কিছু মূর্তি দেখতে হিন্দু ধর্মীয় দেব-দেবীর প্রতিকৃতির মতো, আবার কিছু ধাতব মুদ্রা ও অলংকারে প্রাচীন কারুকার্যের ছাপ স্পষ্ট। এসব নিদর্শনের বয়স শত বছরেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্থানীয়দের বিশ্বাস, সিন্দুরমতি এলাকা একসময় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ছিল। অনেকেই মনে করছেন, এখানে হয়তো কোনো প্রাচীন মন্দির বা বসতি ছিল, যা কালের বিবর্তনে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।


এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ নিরাপত্তা না থাকলে মূল্যবান এসব নিদর্শন চুরি বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নিদর্শন আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো হলে এই এলাকা থেকে প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সাধারণ মানুষ যাতে নিজেরা খনন বা সংগ্রহ না করেন, সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। কারণ এতে মূল্যবান তথ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।


এখন সবার চোখ সিন্দুরমতির দিকে—কাদার নিচে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস ঠিক কতটা বিস্তৃত, তা জানতে অপেক্ষা শুধু সময়ের।


বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!