হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম:
দশ মাস বয়সের প্রণোচ্ছল শিশু মাফি জানে না তার মা কি ভয়ানক রোগ বুকে বহন করে বেড়াচ্ছে। সে সারাক্ষণ মায়ের কাছে থাকতে চাইছে, তার মায়ের বুকের দুধ পান করতে চাইছে! কিন্তু কঠিন রোগ তার মায়ের সমস্ত আশা আকাংখায় জল ঢেলে দিয়ে শরীর থেকে সমস্ত কিছুই চুষে নিয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে থাকলেও সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ দিতে পারছে না বাল্যবিবাহের শিকার আখিমনি(১৮)। দরিদ্র পরিবারে মাত্র সাড়ে ১৫ বছর বয়সে তাকে বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। স্বামীর সংসারে প্রথম প্রথম ভালোই দিন কাটছিল তার। কিন্তু সন্তান পেটে আসার পর থেকেই পুরনো রোগ যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। হঠাৎ করেই শশুর বাড়ীর লোকজন জানল মেয়েটি জন্ম থেকেই হার্টের ফুটো ও ভাল্ব সমস্যায় ভুগছে। রোগ গোপন করায় মেয়েকে বাপের বাড়িতে পাঠানো হলো। বলা হলো চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে যেন বাড়ি ফেরে। কিন্তু আখিমনির দরিদ্র বাবা-মায়ের সামর্থ নেই মেয়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো। ফলে বাড়িভিটা থেকে দুই শতক জমি বিক্রি করে চলল আখিমনির চিকিৎসা। প্রথমে কুড়িগ্রাম, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষে ঢাকার গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, দ্রæত অপারশেন করতে হবে এজন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন! কিন্তু দিনমজুর বাবা কিভাবে এত টাকা সংগ্রহ করবেন। চোখের সামনে সন্তান এবং নাতির কষ্ট দেখে বুক ফেঁটে যাচ্ছে বাবা-মায়ের। তাদের বুকফাঁটা কান্নায় ভারি হয়ে আসছে পরিবেশ! এমন পরিস্থিতিতে সহ্নদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারের লোকজন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ জামিরবাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর পরিবার রাজু মিয়া ও আমেনা বেগমের ৩য় সন্তান আখিমনি (১৮)। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে পাশর্^বর্তী কাসিমবাজার গ্রামে দর্জি সুজন মিয়ার সাথে বিয়ে হয় আখিমনির। বাল্যবিয়ের শিকার আখিমনি জন্মের পর থেকেই হার্টের ছিদ্র সমস্যায় ভুগছিল। এরপর সন্তান জন্ম নেয়ার পর তার হার্ট ও ভাল্বের সমস্যা আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়। অসুস্থ্য মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রামে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হার্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তার হার্টের অপারেশন দ্রæত করার জন্য পরামর্শ দেন। এজন্য চিকিৎসায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। গত দেড় মাস পূর্বে এই পরামর্শ দেয়া হলেও টাকার অভাবে আখিমনির চিকিৎসা আটকে আছে। প্রতিবেশীরা জানান দিন যত যাচ্ছে শিশুটি মায়ের বুকের দুধ তত পাচ্ছে না। আমরা যতটুকু পেরেছি সহায়তা করেছি। এখন তার চিকিৎসায় অনেক অর্থের প্রয়োজন যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এখন বিত্তবানরাই পারেন এই শিশু সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে তার মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে।
রাজু মিয়ার ছোট ভাই মো. সাজু মিয়া জানান, আমার ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ভাঙ্গা টিনের ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাচ্ছে তারা। যাদের ঘর করার টাকা নেই, তারা কিভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাবে। গ্রামবাসী কিছুটা সহযোগিতা করেছে। এখন অনেক টাকার দরকার যা গ্রামবাসীর পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা খুবই কষ্টে আছে।
আখিমনির মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার মেয়েটা খুবই অসুস্থ্য। খাবার খেতে পারে না। ঠিকমতো নি:শ^াস নিতে পারে না। প্রচন্ড বুকের ব্যাথায় যখন কুকড়ে যায়, তখন মেয়ের দিকে তাকাতে আমার আত্মা ফেঁটে যায়। আমাদের কোন কর্ম নাই যে মেয়ের চিকিৎসা করাবো। যা টাকা ছিল সব শেষ। এখন আপনারা সহযোগিতা না করলে মেয়েটাকে বাঁচাতে পারবে না।
আখিমনির বাবা রাজু মিয়া বলেন, মেয়েকে নিয়ে আমি খুব টেনশনে আছি। বাড়িভিটার দুই শতক জমি বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করতে টাকা শেষ হয়ে গেছে। কামলা খাটা মানুষ। এখন অপারেশন করার টাকা পাচ্ছি না। ছোট্ট বাচ্চাটার ভবিষ্যতের জন্য আমার মেয়েটার সুস্থ্য হওয়া দরকার। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো। আপনারা যদি সবাই মিলে সাহায্য করেন তাহলে মেয়েটা ও তার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারবো।
ক্লান্ত বিধ্বস্ত আখিমনি জানায়, আমার বাচ্চাটার জন্য আমি বাঁচতে চাই। আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ্য হতে চাই। আমার বাবার সামর্থ নাই আমার চিকিৎসা করার। স্বামীরও আর্থিক সামর্থ নাই। সামর্থবান মানুষ যদি একটু সাহায্য করে তাহলে আমি বাচ্চাটার জন্য বাঁচতে পারবো।
যোগাযোগ: ০১৮৭১০৩৮৪৩৫ রাজু মিয়া (পিতা)
আন্তর্জাতিক
শিশুটি জানে না তার মা কি ভয়ানকরোগ বুকে বহন করে বেড়াচ্ছে!
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ২৩ বার
বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত খবর
ভুরুঙ্গামারীতে মাটি খুঁড়তে গিয়ে হ্যান্ড গ্রেনেড (মর্টারশেল)উদ্ধার
32 minutes আগে
অযোগ্য নেতৃত্ব ও ভাইরাল সংস্কৃতি: সমাজে নতুন সংকটের ইঙ্গিত
5 hours আগে

Leave a Reply