হোম / অপরাধ
অপরাধ

শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতার ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৬২ বার


নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি।” শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে তর্কাতর্কির সময় মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা আন্দোলন করে সরকার রিফর্ম করেছি। প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে এনেছেন, আবার আমাদের সাথেই বাগবিতণ্ডা করছেন! আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।” ভিডিওতে তার এ বক্তব্য ঘিরে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে। খবর পেয়ে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র থানায় যান এবং নয়নকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওসি আবুল কালাম এ দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রবল চাপের মুখে পুলিশ নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী হাসান বলেন, রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে ওই বক্তব্য বেরিয়ে এসেছে। পরে বিষয়টি তিনি নিজেই অনুধাবন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, তিনি ঘটনার ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্রনেতারা তার আন্দোলনের পক্ষে থাকার কিছু ছবি ও ভিডিও দেখান। থানার ভেতরে কথা কাটাকাটির একটি ভিডিও আমি দেখেছি। আটককৃত ব্যক্তি আগে ছাত্রলীগ করলেও বর্তমানে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জানান, জনসমক্ষে দেওয়া এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সহিংস ঘটনার মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হিসেবেও ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!