হোম / ঢাকা
ঢাকা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: অমোচনীয় কালিমা ও আলোকবর্তিকার শপথ

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২৩৫৬৩ বার
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: অমোচনীয় কালিমা ও আলোকবর্তিকার শপথ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: অমোচনীয় কালিমা ও আলোকবর্তিকার শপথ


আজ ১৪ই ডিসেম্বর। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গভীর শোক ও চরম বেদনার দিন। আজকের এই দিনটি ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত, যে দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে এসে হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিকসহ হাজারো প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দু’দিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর, বিশেষ করে আল-বদর ও আল-শামসের সদস্যরা, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালায়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘাতকরা বুঝতে পেরেছিল যে একটি জাতিসত্তা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না যদি না তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা বেঁচে থাকে। তারা চেয়েছিল সদ্য স্বাধীন হতে যাওয়া বাংলাদেশকে মেধাশূন্য, পঙ্গু ও দুর্বল করে দিতে, যাতে এই জাতি আর কখনও মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস না পায়। রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো জাতির বাতিঘরদের, আর বধ্যভূমিতে ঘটানো হলো ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধ। রায়েরবাজার ও মিরপুরের বধ্যভূমি আজও সেই নারকীয়তার নীরব সাক্ষী।
এই হত্যাকাণ্ড শুধু কিছু মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি; এটি কেড়ে নিয়েছিল একটি জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। এই ক্ষতি অপূরণীয়, যার শূন্যতা আজও আমাদের সমাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনুভূত হচ্ছে।
তবে, আজকের এই দিনটি কেবল শোক প্রকাশের দিন নয়। এটি সেই বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের মহিমাকে হৃদয়ে ধারণ করার দিন। যে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন—একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ—তা বাস্তবায়নের শপথ নেওয়ার দিন।
এই দিনে আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতি তার সেই ঐতিহাসিক দায় কিছুটা হলেও মোচন করেছে। কিন্তু আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো সেই শহীদদের চেতনাকে জীবন্ত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সঞ্চারিত করা।
শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে এবং জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দিতে। তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শকে পাথেয় করে একটি প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন করাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।
১৪ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অমোচনীয় কালিমা। কিন্তু এই কালিমার বিপরীতে, শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে। এই আলো ধরেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সমৃদ্ধির পথে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এই কলামটি পত্রিকার জন্য উপযুক্ত শিরোনাম ও কাঠামো বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
আপনি যদি চান তবে এই কলামের জন্য একটি বক্স আইটেম বা বিশেষ সংবাদ তৈরি করে দিতে পারি, অথবা এর দৈর্ঘ্য কমাতে/বাড়াতে পারি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!