হোম / অপরাধ
অপরাধ

লালমনিরহাটে জিরোলাইনের পাশে বিএসএফের স্থাপনা চেষ্টা:

প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৫৬০ বার
লালমনিরহাটে জিরোলাইনের পাশে বিএসএফের স্থাপনা চেষ্টা:
লালমনিরহাটে জিরোলাইনের পাশে বিএসএফের স্থাপনা চেষ্টা:


লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘জিরোলাইন’ ঘেঁষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক রিং ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা কেবল একটি স্থানীয় সীমান্ত ঘটনা নয়—এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের প্রতি একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির বাধার মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ হলেও ঘটনাস্থলে নির্মাণসামগ্রী রেখে দেওয়া হয়েছে, যা সীমান্তে একটি কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সীমান্ত ব্যবস্থার ‘রেড লাইন’আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থায় ‘জিরোলাইন’ কোনো সাধারণ ভৌগোলিক রেখা নয়। এটি দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত একটি সংবেদনশীল সীমারেখা, যার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই সীমারেখার এত নিকটে রিং ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কার্যকর উপস্থিতি (effective presence) প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
রিং ব্রিজের মতো অবকাঠামো সীমান্ত এলাকায় শুধু যোগাযোগ সুবিধা নয়—এটি দ্রুত বাহিনী মোতায়েন, নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে কৌশলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। জিরোলাইনের পাশে এমন স্থাপনা স্থাপন সীমান্তে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা (status quo) পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিজিবির নিয়মিত টহল ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নির্মাণকাজ বন্ধ করানো এবং বিএসএফকে লিখিতভাবে মালামাল সরানোর নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে বিজিবি স্পষ্ট করেছে—সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় নেই।

৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুমের বক্তব্য এই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
আন্তর্জাতিক আসনে বার্তা: সীমান্তে স্থিতাবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে
এই ঘটনা কেবল সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আসনেও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। সীমান্ত ব্যবস্থায় একতরফা পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যৌথ সীমান্ত সম্মেলন (JBC), সীমান্ত সমন্বয় সভা এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নির্মাণকাজ বন্ধ হলেও ঘটনাস্থলে মালামাল রেখে যাওয়াকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সাময়িক বিরতি নাকি পরিস্থিতি অনুকূল হলে আবারও কাজ শুরুর প্রস্তুতি—সে প্রশ্ন এখন সীমান্তবাসী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সতর্কতা, কূটনীতি ও শক্ত অবস্থান—তিনটি পথেই সমাধান
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেবল মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জিরো টলারেন্স নীতি।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান যদি স্পষ্ট ও নথিভুক্তভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপন করা হয়, তবে তা কেবল বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়—ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সীমান্ত চাপ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!