হোম / অপরাধ
অপরাধ

রৌমারী খেদাইমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

প্রকাশ: 31 August 2026, 02:32 AM পড়া হয়েছে: ৩৩ বার

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রৌমারীর খেদাইমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে মহাপরিচালক, উপপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে এন্তার অভিযোগ তুলে লিখিত দরখাস্ত করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রৌমারীর খেদাইমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৫ সালে পাঠদানের অনুমতি এবং ২০১০ সালে একাডেমি স্বীকৃতি লাভ করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি জালিয়াতি, প্রতারণা, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরির প্রলোভন দিয়ে কয়েক দফা নিয়োগ দেওয়ার নামে কয়েকজন যুবকের নিকট থেকে অর্ধকোটি টাকার হাতিয়ে নেয়। এছাড়া প্রধান শিক্ষক ডিজির ও সভাপতি অ্যাড. মো. আমজাদ হোসেন স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল ও ভুয়া, রেজুলেশন জালিয়াতি করে পাঁচজন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে ঘুষ গ্রহণ করেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. মো. আমজাদ হোসেন ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুর রহমান পৃথক পৃথকভাবে ডিজি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দরখাস্ত করেন। এ নিয়ে সরেজমিন গিয়ে জানতে পারেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয় পরিদর্শক পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত করে আব্দুল ওহাব কোন শিক্ষক নয় বা শিক্ষক হিসাবে কোন তথ্য নেই। অথচ তিনি ব্যানবেইস জরিপে, ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে বন্ধ স্কুলকে সচল দেখান।

তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম কোর্টে ২টি মামলা চলমান আছে। ১১ বছর পর ফাঁস হলো প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি নিজেই তৎকালীন খণ্ডকালীন শিক্ষক ডিজির ও সভাপতি অ্যাড. মো. আমজাদ হোসেনের স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল ও ভুয়া, রেজুলেশন জালিয়াতি করে পাঁচজন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে ঘুষ গ্রহণ করেন এবং নিজেই নিয়োগ নেন। শর্ত অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কম ছিল। এ সময় তিনি বিএ তৃতীয় বিভাগ পাশ ছিলেন। এখন চাকরি বাঁচাতে ছোট ভাইকে কলেজ সভাপতি তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের পাশাপাশি বিগত দিনেও ভর্তি ও ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন তিনি। অপরদিকে স্কুলটিতে ৯ বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা ১০% বেতন-ভাতা ও টিউশন ফি বাবদ কোটি টাকা আদায় হলেও না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। তিনি সর্বোপরি বিধি-বহির্ভূতভাবে স্কুলের সভাপতির স্বাক্ষর, সিল মোহর এবং অনুমোদন ছাড়াই একক স্বাক্ষরে বিদ্যালয়ের নামে সোনালী ব্যাংক রৌমারী শাখায় একটি হিসাব খোলেন।

এ ব্যাপারে স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রধান শিক্ষক এছাড়া আমি কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি করিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!