হোম / ধর্ম
ধর্ম

রমজান মাস: রহমত, বরকত, ফজিলত ও মুমিনদের করণীয়

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১১ বার
  • বেনজির আহমেদ মুকুল
    রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে আসে। এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য মাস। রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত, যা বান্দাকে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও নৈতিক উৎকর্ষের পথে পরিচালিত করে।
    কুরআনের আলোকে রমজান
    পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা বলেন—
    “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
    — সূরা আল-বাকারা: ১৮৩
    আরও বলেন—
    “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ।”
    — সূরা আল-বাকারা: ১৮৫
    এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে রোজার মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ন করা।
    রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস
    মুহাম্মদ (সা.) হাদিসে কুদসিতে বর্ণনা করেন যে আল্লাহ তাআলা বলেন—
    “রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
    — সহিহ বুখারি
    এই হাদিস রোজার বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরে। অন্যান্য আমলের সওয়াব নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্ধারিত থাকলেও রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন—যা সীমাহীন ও অতুলনীয়।
    আরও একটি হাদিসে এসেছে—
    “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
    — সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
    রাসূল (সা.) আরও বলেন—
    “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ—একটি ইফতারের সময়, আরেকটি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।”
    আল্লাহ যে আমলে সন্তুষ্ট হন
    রমজান এমন এক মাস, যখন কিছু বিশেষ আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বিশেষভাবে সহায়ক—
    ১. ইখলাস ও আন্তরিকতা:
    সব ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।
    ২. নামাজে যত্নবান হওয়া:
    পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করা এবং তারাবিহ ও তাহাজ্জুদে মনোযোগী হওয়া।
    ৩. কুরআন তিলাওয়াত:
    রমজান কুরআনের মাস। তাই বেশি বেশি তিলাওয়াত করা এবং এর অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা।
    ৪. দান-সদকা ও যাকাত:
    রাসূল (সা.) রমজানে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়।
    ৫. তাওবা ও ইস্তেগফার:
    আন্তরিক অনুতাপের মাধ্যমে গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
    ৬. গীবত, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে বিরত থাকা:
    রাসূল (সা.) বলেছেন—
    “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
    — সহিহ বুখারি
    লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
    রমজানের শেষ দশকে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা বলেন—
    “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”
    — সূরা আল-কদর: ৩
    এই রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ হয়। তাই শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া, জিকির ও ইতেকাফ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    রমজান আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণমাস। “রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব”—এই ঘোষণা রোজার মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করেছে।
    এ পবিত্র মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিকতা, নিয়মিত ইবাদত, দান-সদকা এবং নৈতিক শুদ্ধতা বজায় রাখা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
    আসুন, আমরা সবাই রমজানকে জীবনের পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি এবং আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হই।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!