হোম / অপরাধ
অপরাধ

ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ভেজাল সেমাই তৈরির দায়ে কুমিল্লা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৮১ বার
ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ভেজাল সেমাই তৈরির দায়ে কুমিল্লা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ভেজাল সেমাই তৈরির দায়ে কুমিল্লা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগে “কুমিল্লা বেকারি” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল সেমাই তৈরি এবং খাদ্যে অনুমোদনহীন টেক্সটাইল রং ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় এই শাস্তি দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই রংপুরের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা বেকারির কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাৎ হোসেন।

অভিযান চলাকালে বেকারির উৎপাদন কক্ষ পরিদর্শন করে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তার ন্যূনতম নিয়মকানুন উপেক্ষা করে লাচ্চা সেমাইসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। বিশেষ করে খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগী রংয়ের পরিবর্তে টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া উৎপাদন ও সংরক্ষণ কক্ষ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর, যেখানে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের কোনো ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছিল না।

এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে মোবাইল কোর্ট আইন ২০১৮ এবং বিএসটিআই আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় বেকারির মালিক দীন ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক খন্দকার জামিনুর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা করে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের কোনো সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল খাদ্য ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে—স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রি না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!