হোম / অপরাধ
অপরাধ

বিচারহীনতার বিস্তার ও মব সংস্কৃতি: রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৯১ বার
  • এম এ হক, সাংবাদিক, কলামিস্ট
    একটি রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতিই বাড়ায় না, বরং পুরো সমাজব্যবস্থাকে অস্থির করে তোলে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড—পুলিশ সদস্য হত্যা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পরিচয়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলো—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
    পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের আইন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যখন কোনো পুলিশ সদস্য হত্যার শিকার হন এবং সেই ঘটনার দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হয় না, তখন তা শুধু বাহিনীর মনোবলেই আঘাত হানে না; বরং অপরাধীদের কাছেও একটি ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঝুঁকি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে অনেক সময় নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে।
    অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধও সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে যে কিছু রাজনৈতিক সংগঠন বা তাদের অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে একশ্রেণির অসাধু কর্মী চাঁদাবাজি, দখল, হামলা কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এনসিপি (NCP) নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যখন অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি বিশ্বাস আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
    এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো মব সংস্কৃতির বিস্তার। যখন মানুষ মনে করে অপরাধের বিচার হবে না বা অপরাধীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাবে, তখন কিছু ক্ষেত্রে জনতা নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে বিচারবহির্ভূত সহিংসতা বাড়ে, নিরপরাধ মানুষও ক্ষতির শিকার হয় এবং রাষ্ট্রের আইনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধীর পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান বা প্রভাব নয়—অপরাধই হতে হবে বিচারের একমাত্র মানদণ্ড। পুলিশ হত্যা হোক কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মীর অপরাধ—প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের নাম ব্যবহার করে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
    কারণ বিচারহীনতা কখনো স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারে না। ন্যায়বিচারের ধারাবাহিক প্রয়োগই পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে, অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সমাজ থেকে মব সংস্কৃতি নির্মূল করতে। একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে তাই আইনের সমান প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!