হোম / শিক্ষা
শিক্ষা

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিকের সব বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা, সরবরাহে ঘাটতি ২৭ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১১৫৮ বার


নিউজ ডেস্কঃ খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে দেশের নতুন শিক্ষাবর্ষ। তবে বছরের প্রথম দিনেই মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এখনো মাধ্যমিক স্তরের ২৭ শতাংশের বেশি বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করতে পারেনি।
এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে বলে তারা আশাবাদী। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাস্তবে শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে, এমনকি ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পড়াশোনায় কিছুটা অনিশ্চয়তায় পড়ছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।
দেড় দশক ধরে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ঘটা করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দিত এনসিটিবি। এতে নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষাঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো। তবে গত দুই-তিন বছর ধরে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। গত শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের বই পৌঁছাতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং সরকারের নানা সমালোচনা হয়।
এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল গত নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা। দরপত্র ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নভেম্বরে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করায় বই ছাপা ও সরবরাহ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়, যার প্রভাব পড়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এর শতভাগই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই সব বই হাতে পাচ্ছে। তবে সংকট তৈরি হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই, যদিও প্রায় ৮৮ শতাংশ বই ছাপা সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়মানুযায়ী বই ছাপার পর বাঁধাই, সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়। এনসিটিবির তথ্য বলছে, গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা ও বিতরণ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই সরবরাহে পিছিয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং অষ্টম শ্রেণির বই প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ।
এনসিটিবি কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি জানুয়ারির মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!