নিউজ ডেস্কঃ দেশের শীর্ষ ১০১ বিশিষ্ট আলেম-উলামা বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শক্তপোক্ত বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, সম্প্রতি গঠিত “জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন সমমনা ইসলামী জোট” শরিয়া বা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে কোনো জোট নয়। তারা বলেন, ‘‘ঈমান ও আক্বীদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনী সমঝোতার নামে গঠিত কোনো জোটকে ‘ইসলামী জোট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ইসলামী জোটের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে সাধারণ মুসলমান ও তাওহিদী জনতাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যারা ইসমতে আম্বিয়া স্বীকার করে না এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে সত্যের মানদণ্ড হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গঠন ইসলামী চিন্তাধারার পরিপন্থী। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না। আলেমরা বলেন, ‘‘যারা ঈমান ও আক্বীদা বিসর্জন দেয়, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা মোটেও সমীচীন নয়।’’
দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের প্রচার বিভাগীয় সম্পাদক মুফতি মাহমুদ হাসান জানান, ইসলামী রাজনৈতিক জোটের মূল পরিচয় হলো—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, কুরআন ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ করা। দ্বীনবিরোধী সব ধরনের আপস থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই প্রকৃত ইসলামী জোটের মাপকাঠি। তারা আরও বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদার পরিপন্থী দল বা ব্যক্তির সঙ্গে ঐক্য গঠন করলে তা দ্বীনি এবং আক্বীদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।’’
বিবৃতিতে আলেমরা ইসলামী রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যও উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, ‘‘ইসলামী রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতা অর্জনের কৌশল হতে পারে না। বরং এটি হতে হবে দ্বীন রক্ষা, শরঈ মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, বাতিল চিন্তাধারার মোকাবিলা এবং উম্মাহর ঈমান ও আক্বীদা সংরক্ষণের দায়িত্বশীল মাধ্যম।’’ তাই আক্বীদাগত আপসের ভিত্তিতে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামী রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী বলা যায় না।
বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ আলেমদের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাবুনগরী, হাটহাজারী, পীর সাহেব মধুপুর, আঙ্গুরা, সিলেট, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, হবিগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর, মাদারীপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেমরা অন্তর্ভুক্ত। তারা আহ্বান জানিয়েছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলেম-উলামা, দ্বীনি সংগঠনসমূহ এবং সচেতন মুসলিম জনসাধারণ যেন এ বিষয়ে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।
মুফতি মাহমুদ হাসান আরও বলেন, ‘‘উক্ত জোটকে ইসলামী জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং দ্বীনের মৌলিক অবস্থান দুর্বল হবে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’
এই বিবৃতির মাধ্যমে দেশের শীর্ষ আলেমরা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, ঈমান ও আক্বীদা নিশ্চিত না রেখে কেবল রাজনৈতিক সুবিধার জন্য গঠিত কোনো জোট ইসলামী পরিচয় পেতে পারে না। এটি দেশের মুসলিম উম্মাহর ঈমান ও দ্বীনের নিরাপত্তা রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম
দেশের শীর্ষ ১০১ আলেমের যৌথ বিবৃতি: জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইসলামী জোট’ নয়, সাধারণ মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান
প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ১৪০৫ বার
বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত খবর
অন্যায়কারীদের ধরুন, মুখ ঢেকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই: পুলিশকে রিজভীর আহ্বান
7 minutes আগে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা: ইসিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত
18 minutes আগে

Leave a Reply