হোম / অপরাধ
অপরাধ

দুধকুমার নদের বাঁধ কেটে বালু বিক্রি: ভাঙনের হুমকিতে শিমুলতলা বাজার ও ফান্দেরচর গ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৫২ বার


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙনের মুখে পড়েছে শিমুলতলা বাজার ও ফান্দেরচর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে এই বালু ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বালু খেকো জাকারিয়া হোসেন ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদের পশ্চিম পাড়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি) কর্তৃক খননকৃত বালু ভরাট বাঁধ এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে কেটে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে একসময় দুধকুমার নদের ভাঙনে বিলীন হওয়া শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার অবশিষ্ট অংশও আবার নতুন করে ভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেসব স্থানে ঘন বসতি, বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি রয়েছে—সেখানেই নির্বিচারে নদীর বাঁধ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শতাধিক ট্রলি, থ্রি-হুইলার, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে নদীর বাঁধ কেটে তোলা বালু বিক্রি করা হচ্ছে। গাড়িপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এমনকি বালু বিক্রির হিসাব রাখার জন্য নদীর পাড়ে তাঁবু টানিয়ে লোক বসিয়ে রাখা হয়েছে।
শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম, আবদুল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের জামাল হোসেন মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া হোসেন নিজেকে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে বালু বিক্রি করছে। বাধা দিলেও সে কর্ণপাত করছে না। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না। তারা দ্রুত নদীর বাঁধ কাটা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জাকারিয়া হোসেন বলেন, “আমি বেরুবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্রদলের নেতা। এখন সময় আমাদের, ক্ষমতাও আমাদের। আমরাই তো টাকা উপার্জন করবো। কাউকে গোনার সময় নাই।”
এ বিষয়ে বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জামাল বলেন, “দুধকুমার নদীর ভাঙনে আমাদের ইউনিয়ন ইতোমধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন নদীর বাঁধ কেটে দীর্ঘদিন ধরে বালু বিক্রি চলছে। দ্রুত এটি বন্ধ না হলে শিমুলতলা ও ফান্দেরচরের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে বালু কাটা নিষেধ করা হয়েছে। পুনরায় বালু কাটার তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, “অবৈধভাবে নদীর বাঁধ থেকে বালু কেটে বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রির বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!