হোম / রাজনীতি
রাজনীতি

তাদের গর্ব করার বিষয় কি একটা জিনিসই ?

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২২ বার
তাদের গর্ব করার বিষয় কি একটা জিনিসই ?
তাদের গর্ব করার বিষয় কি একটা জিনিসই ?

—–মোশাররফ হোসেন মুসা
গবেষণা অনুযায়ী একজন সুস্থ মানুষের মস্তিষ্ক ২৪ ঘন্টায় ৬ হাজার রকমের চিন্তা করতে পারে। বহু বড় বড় আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে সাধারণ চিন্তা। যেমন- পাখিদের উড়া দেখে রাইট ভাতৃদ্বয় বিমান আবিষ্কার করেন এবং বাষ্পের ধাক্কায় কেটলির ঢাকনা খুলে যাওয়া দেখে জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন । তবে কোনো কিছু আবিষ্কারের আগে দর্শনের বিষয় থাকে, আর আবিষ্কার হয়ে গেলে সেটা বিজ্ঞানের বিষয় হয়ে পড়ে। তথা পৃথিবীর যাবতীয় আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে মানুষের চিন্তা, অলৌকিক কোনো ঘটনা নেই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে করে একটি দলের নেতৃবৃন্দ নারীদের যেভাবে অপদস্থ করছেন, তাতে মনে হয় তাদের মস্তিষ্কে নারীদেহ ছাড়া আর অন্য কিছু নেই।
গত ২৪ জানুয়ারি’ ২৬ তারিখে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান বলেছে-‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল। ছাত্র শিবির সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে’। তার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে । এই ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ৩১ জানুয়ারী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. শফিকুর রহমান তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ( টুইটারে) একটি পোস্টের এক জায়গায় বলেন – আমরা বিশ্বাস করি, যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করে আনে , তখন তারা শোষন, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, তখন এটি অন্য কিছু নয়, বরং অন্যরূপে পতিতাবৃত্তির মতোই’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্যটি ভাইরাল হতে দেখে তিনি ৯ ঘন্টা পর বলেন- তাঁর এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক্ট হয়েছে। তো তাদের এসব বক্তব্য শুনে আমার এক নিকট আত্মীয়া তার হাইস্কুল জীবনের একটি ঘটনা বলেন। তারা কয়েক বান্ধবী দল ধরে হেটে দুই মাইল দুরে এক হাইস্কুলে পড়তে যেতো। তাদের যাওয়ার রাস্তায় একটি মাঠ পড়তো। সেই মাঠে একটি রাখাল গরু চরাতো। সে ও তার বান্ধবীরা লক্ষ্য করতো রাখালটি তাদের দেখলেই প্রসাব করার উছিলায় বসে পড়ে । এটা নিয়ে তারা হাসাহাসি করতো এবং সিদ্ধান্ত নেয় একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার। একদিন ছেলেটি যখন প্রসাবের জন্য বসেছে তখন তাকে কাছে ডাকলো। ছেলেটি মহাখুশি হয়ে কাছে এসে দাত কেলিয়ে হাসতে থাকে। নিকট আত্মীয়া ছিল বেশি সাহসী। সে ছেলেটিকে বলে – দেখি তোর জিনিসটা। এই কথা শুনে রাখালটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। তখন সব বান্ধবী স্যান্ডেল খুলে মারতে মারতে বলতে থাকে – গোলামের বাচ্চা তোর একটি জিনিস আছে, সেটা কি আমরা জানি না? তোর আছে কি! পরিচয় দেয়ার জিনিসতো একটাই।’
কিশোরী কালের ঘটনাটি বলে আমার নিকট আত্মীয়া বলেন – মনে হয় ওদের সারাদিনের চিন্তায় নারীদেহ ছাড়া কিছু নেই। মনে হয়, ওদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না, ওদের কেউ ঘর থেকে বের হয় না।’

লেখক: গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!