

নিউজ ডেস্ক:
ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া, খুলনা ও সিলেটে প্রথম আলোর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। একই রাতে চট্টগ্রাম ও বগুড়া কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতায় তা ব্যর্থ হয়।
হামলার সময় বিভিন্ন কার্যালয়ে চেয়ার, টেবিল, সাইনবোর্ড, ফেস্টুনসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তবে কোনো ঘটনাতেই প্রথম আলোর কোনো কর্মী কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত আক্রমণের শিকার হয়।
কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ে রাত একটার দিকে হামলা চালানো হয়। পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে চেয়ার, টেবিল, ফাইল ক্যাবিনেটসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। কুষ্টিয়া বন্ধুসভার গ্রন্থাগারের তাক, বই ও হারমোনিয়ামও তছনছ করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, লাঠিসোঁটা হাতে একদল ব্যক্তি সিঁড়ি বেয়ে উঠে কার্যালয়ে হামলা চালায়। ঘটনার সময় কার্যালয়ে কেউ না থাকলেও পরে বাড়ির মালিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। জেলা পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

খুলনা:
খুলনা শহরের মৌলভীপাড়ায় অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়ে রাত একটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ফেস্টুন খুলে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বাতি খুলে ফেলা এবং একটি টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
হামলার পর শুক্রবার সকাল থেকে কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সিলেট:
সিলেট নগরের বারুতখানা এলাকায় মধ্যরাতে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং ভেতরের কিছু জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লোগান দিতে দিতে কয়েকজন এসে হামলা চালিয়ে দ্রুত সরে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে।

চট্টগ্রাম ও বগুড়া:
চট্টগ্রামে হিলভিউ আবাসিক এলাকায় প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে রাত সোয়া ১২টার দিকে ৫০–৬০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে স্লোগান দেয় এবং ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল দেখা গেছে।
অন্যদিকে বগুড়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক দফা হামলার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে টহল জোরদার রাখা হয়েছে।
একযোগে এসব হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

Leave a Reply