হোম / অপরাধ
অপরাধ

চট্টগ্রামে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশ: 26 July 2026, 06:14 PM পড়া হয়েছে: ১০ বার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সারাদেশে আলোচিত কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোবারক হোসেন (২৬) ও নুসরাত ফারিয়া (২০)। তাদের বিরুদ্ধে প্রলোভনে ফেলে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও শনাক্তের ভিত্তিতে শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মোড়ে যান। সেখানে চা পান করার সময় নুসরাত ফারিয়া পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর অংশ হিসেবে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ছবি ধারণ করা হয়। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করে অভিযুক্তরা। এরপর তাকে একটি গলিতে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে শনিবার মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ও নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সিএমপি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত মোবারক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি স্মার্টফোন, ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি এবং হাত বাঁধতে ব্যবহৃত একটি রশি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হানি ট্র্যাপ’ হলো এমন একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে প্রেম, আকর্ষণ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলে অর্থ, গোপন তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তা ধারণ করা হয় এবং পরে সেসব প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।

এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে অপরিচিত ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সন্দেহজনক সম্পর্কের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে কেউ এমন ঘটনার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!