হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম-১ আসনে মামলার এজহারভুক্ত আসামিকে প্রার্থী করায় সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৩৬৩ বার


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত আসামি হারিসুল বারি রনিকে সংসদীয় আসন ২৫ কুড়িগ্রাম-১ থেকে প্রার্থী করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এমন খবরে নির্বাচনী এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভোটার ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একটি অংশ এই মনোনয়নকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন’ বলে অভিহিত করছেন।
জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার বিচার চেয়ে হরিপদ মন্ডল ঢাকার সাভার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ২৭ নম্বর আসামি হিসেবে হারিসুল বারি রনির নাম রয়েছে। মামলার নম্বর সি.আর-৪০৭/২০২৫, ধারা ১৪৩/১৪৪/১৪৭/১৪৮/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ (দণ্ডবিধি)। ঠিকানায় উল্লেখ আছে—আদর্শপাড়া, পশ্চিম নাগেশ্বরী, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম। নির্বাচন কমিশনের তফশীল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই তিনি এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলন চলাকালে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়; এতে বাদীর পুত্রসহ বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন। এ ঘটনার বিচার দাবি করেই মামলাটি দায়ের করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার ভোটার আমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, আব্দুল বারেক ও আসাদুজ্জামান বলেন, “আগে তিনি এলাকায় খুব একটা আসতেন না। জাপা ও আওয়ামী লীগের এমপিদের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে এমপি প্রার্থী হওয়াকে আমরা ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন হিসেবেই দেখি।” এলাকাজুড়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা জানান, “আন্দোলনের মামলার এজহারভুক্ত আসামির নির্বাচনে অংশগ্রহণ জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কষ্টদায়ক। এটি স্পষ্টভাবে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন।”
এ বিষয়ে হারিসুল বারি রনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তখন নাগেশ্বরীতেই ছিলাম। ষড়যন্ত্র করে আমার নামে ঢাকার সাভারে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। নির্বাচনি হলফনামায় বিষয়টি উল্লেখ আছে। পুলিশ তদন্তে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।”
মনোনয়ন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কুড়িগ্রাম-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগ-প্রতিআরোপের এই বিতর্ক ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!