হোম / অপরাধ
অপরাধ

কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৭ লাখ টাকার গাছ ৯৯ হাজার টাকায় গোপন নিলামে বিক্রির অভিযোগ,তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৮৮১ বার
কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৭ লাখ টাকার গাছ ৯৯ হাজার টাকায় গোপন নিলামে বিক্রির অভিযোগ,তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের
কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৭ লাখ টাকার গাছ ৯৯ হাজার টাকায় গোপন নিলামে বিক্রির অভিযোগ,তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিধি-বহির্ভূতভাবে গোপনে নিলাম দেখিয়ে ৭টি পুরনো মূল্যবান গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গোপন নিলাম দেখিয়ে নামমাত্র মুল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিলাম কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
গোপন নিলাম ক্রেতা মাহাবুর রহমানের দাবী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান কবির তার নাম ব্যবহার করে গাছগুলো নিজেই নিলামে কিনে নিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। প্রকুত পক্ষে নিলামের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং গোপন নিলামে নামে মাত্র মুল্যে গাছ বিক্রির সুষ্ঠ তদন্ত পুর্বক প্রধান শিক্ষকসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ টি মেহগনি,২টি রেইনট্রি কড়ই ও ২ টি অর্জুন গাছের বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা হলেও গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ৪ সদস্য বিশিষ্ট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ৩টি মেহগুনি, ২টি রেইন্ট্রি কড়াই ও ২টি অর্জুন গাছের বাজার মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা হলেও, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে নিলাম ও বিক্রয়ের জন্য অনুমোদন দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিলাম ও বিক্রয় কমিটির আহবায়ক প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান কবির,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার গোলাম মোস্তফা, উপজেলা পরিবেশ ও বন কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান শাহিন উপজেলা বনকর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষক মোখলেসুর রহমান গোপন বৈঠকে দরপত্র আহ্বান করে কাগজে-কলমে বাজারমূল্য নির্ধারণের পর গাছ মাহাবুর রহমানের নামে বিক্রি দেখানো হয়। পরে প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান কবির গাছের একাংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে বাকী অংশ নিজে বাড়িতে নিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করেছেন। নিলাম গোপন করে বিদ্যালয়ের গাছ দিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র তৈরি করার ঘটনায় জনমনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত,বন বিভাগের মুল্যায়ণ ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি বাধ্যতামুলক। এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন,গাছ বিক্রির নিলাম কমিটি ও প্রধান শিক্ষক নিয়ম লঙ্ঘন করে মোটা অঙ্কের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন। স্থানীয় রবিউল আলম, আনোয়ার হোসেন ও আব্দুস সালাম বলেন, “৭০ বছরের পুরনো গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত দোষীদের শাস্তির দাবী চাই।”কেদার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান,সৈয়দ আহমেদ বাচ্চু ব্যাপারী বলেন,ঐতিহ্যবাহী কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ লাখ টাকার গাছ প্রকাশ্যে নিলাম না করে গোপন নিলামে মাত্র ৯৯ হাজার টাকায় বিক্রি এটা আইন সম্মত নয়। তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে । কচাকাটা সচেতন মহলের পক্ষে মোঃ আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী জানান,বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার গাছ প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান সরকারী নিয়মবহির্ভুতভাবে মাত্র ৯৯ হাজায় টাকায় গোপন নিলামে বিক্রি দেখিয়ে আত্মাসাত করেছেন,তার নিকট নিলামের কাগজপত্র দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখান নাই।
প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান কবির বলেন, “কাগজপত্র ঠিক রেখেই গাছ নিলামে বিক্রি হয়েছে।” ফোন সংযোগ কেটে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
উপজেলা পরিবেশ ও বন কর্মকর্তা মোঃ সাদিকুর রহমান শাহিন বলেন, “নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে গাছ নিলামে বিক্রি হয়েছে হয়েছে।”উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিনিধি পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “গাছগুলো প্রকাশ্যে টেন্ডার হয়নি। সকল কাগজপত্র প্রধান শিক্ষকের কাছে রয়েছে এবং তিনিই গাছ কেটে নিয়েছেন।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি গাছ বিক্রির নিলাম কমিটিতে ছিলেন না এবং তার কাছে কোনো নথিপত্র নেই।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, “আইন অমান্য করে গাছ বিক্রির প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৭ লাখ টাকার গাছ ৯৯ হাজার টাকায়  গোপন নিলামে বিক্রির অভিযোগ,তদন্ত  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের
কচাকাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৭ লাখ টাকার গাছ ৯৯ হাজার টাকায় গোপন নিলামে বিক্রির অভিযোগ,তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের
বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!