হোম / আইন ও পরামর্শ
আইন ও পরামর্শ

এমপিও নীতিমালা-২০২৫ চ্যালেঞ্জ: একাধিক পেশায় নিষেধাজ্ঞা কেন অবৈধ নয়—হাইকোর্টের রুল

প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪৮৭ বার


স্টাফ রিপোর্টার:
এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এমন বিধান কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। নতুন ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৭(ক) ও ১৭(খ) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেওয়া হয়।
বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘এমপিওভুক্তির নতুন জনবল কাঠামো ও নীতিমালা-২০২৫’-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। আইনজীবী নাইম সরদারের মাধ্যমে মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১০ জন শিক্ষক-সাংবাদিক রিটটি দায়ের করেন। হাইকোর্টে রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিক।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পেশায়—যার মধ্যে সাংবাদিকতা ও আইন পেশাও অন্তর্ভুক্ত—জড়িত থাকতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা যাবে। ফলে শিক্ষকতার পাশাপাশি খণ্ডকালীন সাংবাদিকতায় যুক্ত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক সমস্যার মুখে পড়েন।
এ প্রেক্ষাপটে গত ১৮ ডিসেম্বর দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় ‘মফস্বলে কাজ করা সাড়ে তিন হাজার সাংবাদিক বিপাকে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি মফস্বল এলাকায় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা শিক্ষক-সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শিক্ষক-সাংবাদিকদের দাবি, বিদ্যালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালন শেষে সমাজসেবামূলক কিংবা সম্মানীভিত্তিক কাজে যুক্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বেও রয়েছেন শিক্ষকরা। নতুন নীতিমালার এ বিধান তাদের পেশাগত ও সামাজিক ভূমিকা সীমিত করছে বলেও তারা মনে করছেন।
এ অবস্থায় এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর বিতর্কিত ধারা নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারিকে শিক্ষকসমাজ ও সাংবাদিক মহল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!