লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে লালমনিরহাটের অরক্ষিত ভারত সীমান্ত পথে মাদকের সঙ্গে আসছে অস্ত্র। টার্গেট জাতীয় নির্বাচন। সম্প্রতি বিজিবি’র ধাওয়ায় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় চোরাচালানকারীরা।
জানাগেছে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ভোর রাতে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে তিস্তা ব্যাটলিয়নের (৬১বিজিবি) পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা পিস্তল ও গুলিসহ আতিক নামে শিবিরের সাবেক এক নেতাকে আটক করে। আটক আতিক পাটগ্রাম থানা পশ্চিম শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
গত ২৮ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) টহল দল সদস্যরা সদর উপজেলা মোগলহাট সীমান্তে চোরাকারবারিদের ধাওয়া দিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। সীমান্তের মোগলহাট বিওপির নিকটবর্তী মুনিয়ারচর ফলিমারি ধরলা চর এলাকা থেকে ইউএসএ তৈরী ওই পিস্তল উদ্ধার হয়।
নির্বাচনের আগে সীমান্ত এলাকা থেকে পিস্তল উদ্ধারের ঘটনাটি সীমান্তে অস্ত্র পাচারের বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
যুগের পর যুগ ধরে মাদক ও চোরাচালানে নিরাপদ রুট খ্যাত জেলা সদরের মোগলহাট থেকে ৫৪ কিলোমিটার পর্ষন্ত কাঁটাতারের বেড়াবিহীন অরক্ষিত ভারত সীমান্ত পথ, জেলার কালিগঞ্জ ও হাতিবান্ধা উপজেলার লোহাকুচি, চন্দ্রপুর, দৈখাওয়া, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামসহ সীমান্তের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে মাদক পাচারকারী ও চোরাচালানকারীরা অস্ত্র পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে কাঁটাতারের বেড়াহীন সীমান্ত পথের পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন তথা ১৫, ৫১ ও ৬১ ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। এরপরও ঠেকানো যাচ্ছে না চোরাচালানের ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্তের ওই ১১টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতি রাতে গরু ও মাদক পারাপার করে থাকে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। আর গরুর ও মাদকের সঙ্গে সীমান্ত পেড়িয়ে দেশে আসছে অস্ত্র। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার মদদে বিজিবির কতিপয় অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করে চোরাকারবারিরা এখন সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমন্তবাসীরা বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে ভারতের সঙ্গে থাকা অরক্ষিত সীমান্ত পথ দিয়ে। এ ছাড়া মাছ ধরার ট্রলার, নৌকার মাধ্যমেও দেশে অস্ত্র আনা হচ্ছে। এসব অস্ত্র চোরাকারবারিদের ডেরায় প্রথমে মজুত করা হয়। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অবৈধ অস্ত্রের কারবারিরা এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা কৌশলে পৌঁছে দেয়।
তারা বলেন, সীমান্তে যারা অবৈধভাবে লোকজন পারাপারে জড়িত, তাদের বড় অংশ অস্ত্র চোরাকারবারির সহযোগী। চোরা কারবারিরা অস্ত্রের চালান পার করতে ছোট মাদক ও ভারতীয় কাপড়ের চালানগুলো নিজেরাই পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। কারণ, একটি অভিযানে পুলিশ – বিজিবিকে ব্যস্ত রেখে চোরা কারবারিরা অন্য চালানগুলো নিরাপদে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়।
১৫ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম (পিএসসি) বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Reply